তুরস্কের মন্ত্রীকে বের করে দিল নেদারল্যান্ডস

তুরস্কের সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে বিক্ষোভের মুখে তুরস্কের এক মন্ত্রীকে বের করে দিল নেদারল্যান্ডস।

স্থানীয় সময় শনিবার নেদারল্যান্ডসের রটারডামে তুরস্কের কনস্যুলেটের সামনে তুর্কিরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের সমর্থনে স্থলপথে রটারডামে আসেন তুরস্কের পরিবারমন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়া।

ডাচ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সায়ান কায়াকে কনস্যুলেটের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তাকর্মীদের প্রহরায় তাকে জার্মান সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ১ হাজারের বেশি তুর্কি রটারডামে তুরস্কের কনস্যুলেটের সামনে ভিড় করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হয়। সেই সঙ্গে অশ্বারোহী নিরাপত্তাকর্মীরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাস্তায় নামে।

বিক্ষোভকারীরা বোতল ছুড়ে এবং পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। নেদারল্যান্ডসে বসবাসকারী তুর্কিদের ভোট দানে সাহায্য করার পরিকল্পনা নিয়ে রটারডামে আসেন সায়ান কায়া।

১৮ এপ্রিল তুরস্কে গণভোট হবে। এ গণভোটে পার্লামেন্টারি ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রেসিডেনশিয়াল সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেবে তুর্কিরা। প্রেসিডেনশিয়াল ব্যবস্থা প্রবর্তন হলে তুরস্কে প্রেসিডেন্টের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের সর্বময় ক্ষমতা চলে আসবে। এর বিরুদ্ধে তুরস্কে বিক্ষোভ চলছে।

স্থানীয় সময় রোববার সকালে ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট নিশ্চিত করেন, তুরস্কের পরিবারমন্ত্রী সায়ান কায়াকে পুলিশি প্রহরায় জার্মান সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

কনস্যুলেটে ঢুকতে না দিয়ে সায়ান কায়াকে নেদারল্যান্ডস থেকে বের করে দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেনশিয়াল ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে গেলে গণভোটে দেশে ও দেশের বাইরের সব নাগরিকের ভোট প্রয়োজন। এ জন্য বিদেশেও প্রচার চালাচ্ছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকার।

প্রেসিডেনশিয়াল সরকার ব্যবস্থায় উত্তরণ হলে এরদোয়ানের হাতে রাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা চলে আসবে। পছন্দমতো মন্ত্রিসভা গঠন, জ্যেষ্ঠ বিচারক নিয়োগ, বাজেট প্রণয়ন ছাড়াও যখন যা প্রয়োজন, তখন তাই করতে পারবেন এরদোয়ান। যেকোনো সময় ফরমান জারি করে নীতিগত পরিবর্তন সাধনও করতে পারবেন তিনি। এ ছাড়া পার্লামেন্টের অনুমতি ছাড়াই প্রয়োজনমতো জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতা থাকবে তার হাতে।

প্রায় ৫৫ লাখ তুর্কি দেশের বাইরে বসবাস করে। এর মধ্যে শুধু জার্মানিতে আছে ১৪ লাখ তুর্কি। জার্মানিসহ অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডসেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তুর্কি বসবাস করে। এসব দেশে গণভোটের পক্ষে বেশ কিছু সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক সরকার। কিন্তু এসব দেশে এরদোয়ান-সমর্থকরা সমাবেশ করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে বিদেশের মাটিতে এরদোয়ান-সমর্থকদের সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান কুর্জ জানিয়েছেন, এরদোয়ানকে সমাবেশ করতে স্বাগত জানানো হবে না, কারণ তা বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।

এ নিয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশও অস্তোষ প্রকাশ করেছে। তুরস্কে এরদোয়ানের কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। গত বছর জুলাই মাসে তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর এরদোয়ানের দমন-পীড়ন ও গণ-বহিষ্কারের নিন্দা জানিয়েছে তারা। প্রায় ১ লাখ সরকারি কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছেন এরদোয়ান।

You Might Also Like