২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে কালোরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের স্মরণে ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে।

কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব আনেন জাসদের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার। স্পিকার এটি গ্রহণ করে আলোচনার জন্য অনুমতি দেন। প্রায় সাত ঘণ্টা আলোচনার পর শনিবার রাতে সংসদে প্রস্তাবটি গৃহিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ ৫৬ জন সংসদ সদস্য এই আলোচনায় অংশ নেন।

শিরীন আখতারের প্রস্তাবে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হোক এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেয়া হোক।
সংসদে এই প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনার আগে বিকেলে প্রায় ১৮ মিনিটের একটি ভিডিও ও স্থিরিচিত্রে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের গণহত্যার ভয়াল চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সচিত্র প্রতিবেদনের শুরুতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের ছবি দেখানো হয়। প্রতিবেদনে ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটিও প্রদর্শিত হয়েছে।

এটি দেখানোর আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে গণহত্যার ভয়াবহতা সংসদের সামনে তুলে ধরে বলেন, “আমি নিজে চোখে দেখেছি-পাক হানাদার বাহিনী কিভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় মানুষের মৃতদেহ পড়ে থেকেছে। হানাদাররা বস্তিতে গিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আগুনের ভয়ে মানুষ বের হয়ে এসেছে, আর তারা তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। আমি পার্লামেন্টকে বলব, এ প্রস্তাবটি সর্বসম্মত ভাবে পাস করার জন্য। তাহলে জাতির পিতার সঙ্গে সঙ্গে ৩০ লাখ শহীদের আত্মাও শান্তি পাবে।”

এর আগে চলতি অধিবেশনেই ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করতে সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গত মাসের শেষ সপ্তাহের ওই আলোচনার রেশ ধরেই এ নিয়ে প্রস্তাব আনার কথা বলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

You Might Also Like