আইএসবিরোধী যুদ্ধে এক হাজার সেনা পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র!

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে কুয়েতে ১ হাজার সেনা মোতায়েন করার বিষয়ে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় আইএসের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, তা আরো বেগবান করতে এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

রয়টার্স অনলাইনের এক খবরে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ উদ্যোগ সম্পর্কে আগে কোনো খবর বলা না হলেও রয়টার্সের খবরে বলা হচ্ছে, এসব সেনা মোতায়েন করা হলে যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্ভূত সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কমান্ডারদের ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এর মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি হবে।’ তবে তিনি জানান, কুয়েতে এখন যেসব সেনা মোতায়েন রয়েছে, তাদের চেয়ে নতুন মোতায়েন করা সেনাদের পরিস্থিতি হবে আলাদা।

আইএসবিরোধী যুদ্ধের অংশ হিসেবে কুয়েতে নতুন করে স্থলসেনা মোতায়েনের এই প্রস্তাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাট্টিসের সমর্থন আছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে কমান্ডারদের কাজের গতি বাড়াতে আরো সেনা মোতায়েন করতে চান তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনা থাকা এই উদ্যোগ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পেন্টাগনের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেফ ডেভিস।

প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, আইএসবিরোধী যুদ্ধে তিনি ছোটখাটো পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী। কম সেনা ও হেলিকপ্টারের মতো হালকা যুদ্ধযান ব্যবহার করার পক্ষে ছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্প হয়তো এ ক্ষেত্রে বড় উদ্যোগ নিতে পারেন। কারণ, নির্বাচনী প্রচারে সময় তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, আইএস নির্মূল এক দিনের ব্যাপার।

আইএসবিরোধী যুদ্ধে নতুন করে স্থলসেনা মোতায়েনে ওবামা রাজি না থাকলেও ট্রাম্প হয়তো এককাঠি সরেশ হয়ে উঠতে পারেন। কুয়েতে মোতায়েন ৬ হাজার সেনার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হতে পারে আরো ১ হাজার।

ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস হটানোর অভিযান ক্রমেই বেশি সফলতা পাচ্ছে। ইরাকে আইএসের প্রধান আস্তানাগুলো থেকে জঙ্গিদের হটিয়ে দিয়ে পুনর্দখল করেছে সরকারি বাহিনী। সিরিয়ায়ও দিন দিন পরাজিত হয়ে চলেছে আইএস। এসব অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সমর্থন রয়েছে। বিমান হামলা চালিয়ে আইএসের ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সামরিক জোট।

You Might Also Like