বিতর্কে বিপাশা বসু

বর্তমানে স্বামী করন সিং গ্রোভারকে নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন বিপাশা বসু। তবে হানিমুন নয়, সেখানে ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ফ্যাশন শোয়ের শো স্টপার হিসেবে হাজির হওয়ার কথা ছিল বিপাশার।

কিন্তু শো শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে নাকি বেঁকে বসেছিলেন বিপাশা। তিনি তার রুম থেকে বের হচ্ছিলেন না, এমনকি কারো সঙ্গে কথাও বলছিলেন না। যখন তার ম্যানেজার সানা কাপুর বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে যান তখন তাকে গালিগালাজ করেন এ অভিনেত্রী। তাকে রুম থেকে বের করে দেন। শুধু তাই নয়, আয়োজক গুরবানি কৌরকেও আপমান করেন তিনি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শোয়ের দায়িত্বে থাকা স্কাউট রোনিতা শর্মা রেখি বলেন, ‘ভারতে থাকার সময়েই সানা আমাদের জানিয়েছিলেন বিপাশা তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে আসতে চায় এবং আরো পাঁচ রাত অতিরিক্ত থাকতে চায়। আমরা সেই অনুযায়ী রুম বুক করি। কিন্তু বাড়তি সময়ের জন্য এই হোটেলে রুম ফাঁকা না থাকায় আমরা অন্য একটি হোটেলে রুম বুক করি। সেটিও একটি পাঁচ তারকা হোটেল। প্রতি রাতের জন্য রুম ভাড়া ৬০০ পাউন্ড। লন্ডনে আবতরণ করার কিছুক্ষণ পরই আমরা তাকে দুটি লোকাল সিম কার্ডও হস্তান্তর করি। কিন্তু বলতে গেলে তিনি আমার মুখের ওপরই তা ছুঁড়ে দেন কারণ সেটিতে মাত্র ৫ পাউন্ড রিচার্জ করা ছিল। সেখানে প্রায় ২০ জনের মতো উপস্থিত ছিলেন। সবাই ঘটনাটি দেখেছেন। তার সকল প্রকার যত্ন নেয়া হয় এবং তাকে আগাম ফিও দেয়া হয়। কিন্তু বিপাশা যখন হোটেলে পৌঁছান পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়।’

বিপাশাকে ছাড়াই শো শুরু হয় এবং সেটি একটি ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করে। তারা এটিতে ভারত-পাকিস্তান ফ্যাশন শোয়ের অন্যতম দৃষ্টান্ত বলে উপস্থাপন করে।

কয়েক ঘণ্টা পর কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই একটি ম্যাপ হাতে স্বামী করনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বিপাশা। তবে ম্যানেজার সানা সেখানেই আটক ছিলেন। এরপর লন্ডনের ব্যবসায়ী সানি সুরানি তাকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করি এটি অনেক কষ্টদায়ক একটি পরিস্থিতি ছিল। বিপাশার ম্যানেজার সানার জন্য আমি থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করি এবং তাকে পরবর্তী ফ্লাইটে মুম্বাই পাঠানোর ব্যবস্থা করি। সবকিছুর জন্য আয়োজকদের অনেক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। কারণ ভ্রমণ খরচ বাদে বিপাশাকে সাড়ে সাত হাজার পাউন্ড দেওয়া হয়েছে। বিপাশা এটিকে ‘হানিমুন মানি’ হিসেবে নিলেও আমরা বিষয়টি নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। আমরা ভিসা ও ইমিগ্রেশন সেন্টারে আবেদন করব তিনি যেন ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে কাজ করতে না পারেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিপাশার মুখপাত্র বলেন, ‘বিপাশা এই ইন্ডাস্ট্রিতে গত ১৫ বছর ধরে কাজ করছেন এবং এ বিষয়ে তার সম্মানও রয়েছে। কিন্তু আয়োজকরা তাদের প্রতিশ্রুতি মতো কাজ করেননি। বিমানবন্দরে নেমে বিপাশা নিজে তার হোটেল বুক করেছেন। যা ঘটেছে সম্পূর্ণটা আয়োজকদের অপেশাদারিত্বের জন্য।’

এ প্রসঙ্গে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে একটি টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘শুনলাম একজন নারী আমাদের কাজের নৈতিকতা নিয়ে বাজে কথা বলেছেন এবং কিছু মিডিয়া তাকে সাহায্য করছেন। গত ১৫ বছর আপনি অপেশাদারভাবে কোনো কিছু করেননি। এইবার করেছেন কারণ আপনি স্বচ্ছ্ব ছিলেন এবং আপনার আত্মসম্মান ছিল।’

You Might Also Like