ট্রাম্পের নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় নেই ইরাক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে এবার তার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নেই ইরাক। এ ছাড়া আগে অন্য যে ছয়টি দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, তা বহাল রয়েছে।

ইরান, ইয়েমেন, সিরিয়া, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়ার নাগরিকদের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশে ১২০ দিনের জন্য সব দেশের শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ১৬ মার্চ থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।

ইরাকের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া এরই মধ্যে ইরাকের যারা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন, তাদের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হবে না বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে কারণে ইরাককে নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন, তা নিয়ে বিমানবন্দরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে অনেকে আটক হন, আবার অনেককে বিমানবন্দর থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের ওই আদেশ আদালতে রহিত হয়ে যায়। যে কারণে নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হলো তাকে।

সন্ত্রাসী হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রাখার কথা বলে এ নিয়ে দুবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন ট্রাম্প। নতুন নিষেধাজ্ঞা সামনে আনেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন, অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেলি।

এদিকে, ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞার কঠোর নিন্দা করেছে বেশ কিছু অধিকার সংগঠন ও ডেমোক্রেটিক পার্টি। এ ছাড়া নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলোও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞাকে তারা ‘মুসলিম নিষিদ্ধ’ করার শামিল বলে উল্লেখ করেছেন।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের অভিবাসন অধিকার প্রকল্পের পরিচালক ওমর জাদওয়াত বলেছেন, ‘ট্রাম্প আবার আগের আদেশ ভিন্ন কায়দায় ফিরিয়ে এনেছেন। তার এ আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে লড়ব আমরা।’

২৭ জানুয়ারি প্রথমবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির পর এর বিরুদ্ধে কমপক্ষে দুই ডজন মামলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে। এবারও মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

You Might Also Like