রংপুরে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ভাঙচুর: আহত ২০, ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত

বাংলাদেশের রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে স্থানীয়দের তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলাকালে পাঁচ থেকে ছয়টি দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর রাত ৯টা পর্যন্ত রংপুর-ঢাকা-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল আটটার দিকে পার্কের মোড় এলাকায় লিফা ফার্স্ট ফুড অ্যান্ড কনফেকশনারি খোলার পর ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দোকানের পক্ষ থেকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা চালিয়ে দোকানের ফ্রিজসহ খাবারের কাচের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সকাল নয়টার দিকে সেখানকার ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা অবরোধ তুলে নিলে বেলা ১১টা থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের অবরোধের প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ফটকের বাইরে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি চায়ের দোকানে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে। এ সময় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম, দৈনিক যুগান্তরের ফটোসাংবাদিক উদয় বর্মণসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনগণ রংপুর-কুড়িগ্রাম সড়ক অবরোধ করায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের সঙ্গে ঢাকাসহ দূরপাল্লার সকল ধরনের যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ উভয় পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

সন্ধ্যার পরপর উভয় পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় পার্কের মোড়ের পাঁচ থেকে ছয়টি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাত ৮টার দিকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে যায়। আর স্থানীয়রা পার্কের মোড়ে মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। বর্তমানে দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে আছে। রাত ৯টায় যান চলাচল শুরু হয়।

You Might Also Like