ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর; প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ

ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তিন দিনের এক শুভেচ্ছা সফরে আগামী ২৫ জুন ঢাকা আসছেন। গতকাল শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এক প্রেস বিবৃতিতে তার এই সফরের সময় ঘোষণা করেছে।

 মোদির সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এককভাবে এটাই সুষমার প্রথম বিদেশ সফর। তবে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম ভুটান সফরে তিনি সফরসঙ্গী ছিলেন।

ঢাকা সফরকালে সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া, প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

 প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি শেখ হাসিনাকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করবেন। এছাড়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এবং বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন সুষমা স্বরাজ।

 ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের আসন্ন ঢাকা সফরকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দু’দেশ। বৃহস্পতিবার দুদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে সফরের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা হয়।

 বৈঠক সূত্র জানায়, সফরকালে কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে নয়, বরং সার্বিক দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলো আলোচনা হবে। তবে দুদেশই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রাধান্য দেবে। সেই হিসেবে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত চুক্তি অনুস্বাক্ষর ও ট্রানজিটের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোও উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের  আলোচনায় গুরুত্ব পাবে দু’দেশের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, কংগ্রেস সরকারের আমলে বাংলাদেশকে দেয়া ভারতের এক বিলিয়ন ডলার ঋণের চলমান প্রকল্প, উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষত ত্রিপুরা, মিজোরাম ও আসামের সঙ্গে স্থলপথে যোগাযোগে বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থাকে ব্যবহারের প্রস্তাব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিষয়টি।

 এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক  জনাব সাদেক খান বলেন, ভারতের  নতুন সরকারের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর থেকে বাংলাদেশ তেমন কিছুই পাবে বলে আশা করা যায় না।  তবে, ভারতের নতুন সরকারের পক্ষ থেকে তিনি আশ্বস্ত করতে চাইবেন  যে, তারা  হাসিনা সরকারের পাশে আছে।

 এদিকে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার ১৬২টি সিটমহলবাসী আশা করে বসে আছেন যে সুষমার সফরে তাদের ৬৭ বছরের পরিচয়হীনতা থেকে পেয়ে নাগরিক অধিকার ভোগ করার ক্ষেত্রে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাবে।

 এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সিটমহল বিনিময় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের  সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তেমনটিই আশা করেন বলে রেডিও তেহরানকে জানিয়েছেন।

 কুটনীতিক মহল মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে কংগ্রেস সরকারের মতোই বিশেষ গুরুত্ব দেবে বিজেপি সরকার। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই বার্তা পৌঁছে দিতেই এই শুভেচ্ছা সফরে আসছেন ভারতের নতুন সরকারের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

You Might Also Like