কানাডীয় আদালতের রায় বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর: ড. ইফতেখার

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি কানাডার আদালত। ফলে কানাডীয় প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়েছে। তারা হলেন, এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী ভূঁইয়া।
তাঁরা তিনজনই বাংলাদেশে কাজ পেতে এ দেশের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানুয়ারি মাসে এ মামলার রায় দেয়া হলেও, শুক্রবার কানাডার দু’ টি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এ খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এ মামলার রায়ের আদেশে বিচারক লিখেছেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল, ‘তা জল্পনা, গুজব আর জনশ্রুতি ছাড়া কিছুই না’।
উল্লেখ্য, পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ২০১৩ সালে পুরো প্রকল্প থেকে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ প্রত্যাহার করেছিল বিশ্বব্যাংক। বৃহৎ এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ও জাপানি সহযোগী সংস্থা জাইকাও অর্থায়নে রাজি হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের ঋণ প্রত্যাহারের ফলে তারাও সরে আসে।
দুর্নীতির ওই ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। অভিযোগ ওঠে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও। তবে তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে সেসময় জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে আজ বিএনপি মহাসইচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো রায় বা কানাডার আদালতের বিচারে ব্যাপারে আমরা কখনই উক্তি করিনি এবং আমাদের মূল বক্তব্য সেই সময় যেটা ছিল, এখনো তাই। কার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, কোথায় কি প্রমাণ হলো না বা হলো, সেটা আমাদের বিষয় না।
এ প্রসঙ্গে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান রেডিও তেহরানকে বলেন, কানাডীয় আদালতের এ রায় বাংলাদদেশের জন্য এটি স্বস্তির খবর। যেহেতু পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি, সেহেতু বিশ্বব্যাংকের উচিত এ ব্যাপারে তাদের ব্যাখ্যা দেয়া, কেন তারা বাংলাদেশকে কলংকিত করেছে, কেন তারা অর্থায়ন বন্ধ করেছিল।
বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু তৈরি করছে বাংলাদেশ, সঙ্গে আছে চীন। ২০১৮ সালের মধ্যে এর নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে সেতুর ৩৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পুরোপুরি শেষ দুই ধারের সংযোগ সড়কের কাজও।

You Might Also Like