‘মাদকসেবী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থায় নির্দেশনা জারি হবে’

মাদক সেবনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন সকল সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মাদক ও তামাকের অপব্যহার রোধে সচতেনা সৃষ্টির লক্ষ্যে কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিগত ১৮ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর হতে প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিং করার জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা আছে।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ধারা ৯(৫) তুলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। যে কোনো ধরনের অপকর্ম তথা জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ইয়াবা তথা মাদক সেবন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সচেতনামূলক কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, মনিটরিং সেলে গৃহীত কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মনিটরিং সেল শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলের মাধ্যমে তাদের সমস্যা উত্তরণ ঘটাতে পারবে।

এ ছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৫ এবং বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী ‘পাবলিক প্লেস’ এর আইনি ধারা উল্লেখ করে আরো বলেন, ‘সর্বোপরি মাদক সেবনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।’

ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০১০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খসড়াটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হবে।’

ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখ হতে এ পর্যন্ত ১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২১টি কলেজ সরকারিকরণ করেছে।’

মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রায় ৫ হাজার ৫৭৪ টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নেই। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ওই সকল বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।’

বেগম মাহজাবিন খালেদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৩৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে।’

You Might Also Like