মশারির গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত

গুলিস্তানের জাকের সুপার মার্কেটের তিনতলার একটি মশারির গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাগা আগুনে ওই মার্কেটের চারটি দোকান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো দেড় শতাধিক দোকান।

সরেজমিনে জাকের সুপার মার্কেট পরিদর্শন, ব্যবসায়ী ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও জাকের সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, আগুন লাগার সময় পূর্বপাশে আমার জুতার গোডাউন বন্ধ করছিলাম। তখন দেখলাম তিনতলার পশ্চিম অংশের মশারির গোডাউন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরে সেখানে গিয়ে দেখি মশারিতে আগুন। প্রথম দিকে আমরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা দ্রুত বেড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রেডিমেইড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মো. মোহসিন বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমার দোকান বন্ধ করছিলাম। এ সময় শুনতে পাই তিনতলায় গোডাউনে আগুন লেগেছে। পরে সেখানে গিয়ে দেখি আগুন কয়েকটি দোকানে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, তিনতলার পশ্চিম পাশের একটি মশারির গোডাউনে প্রথম আগুন লাগে। পরে পাশে থাকা কাপড় ও জুতার গোডাউনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।|

এই মার্কেটের ব্যবসায়ী জালাল উদ্দীন জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত ছড়াতে শুরু করে। তিনতলায় প্রথমে আগুন লাগলেও এটি চারতলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

তিনি বলেন, দুটি ফ্লোরে কমপক্ষে ৫০০ দোকান আছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়েই ১০ মিনিটের ভেতর আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের মোট ১৫টি ইউনিট এখানে কাজ করেছে। রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি বলেন, তিন থেকে চারটি দোকান পুড়ে গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি আগুনের ধোঁয়ায় প্রায় শতাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরও ভেতরে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে, তবে এটা বড় কোনো বিষয় নয়।

তিনি আরো বলেন, আগুনের সূত্রপাত এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। শেষ হলে দোকান ও গোডাউন মালিকদের সঙ্গে কথা বলে আমরা প্রতিবেদন জমা দেব।

এদিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে একটি প্রতিনিধিদল অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান দেখতে আসে।

তারা জানান, করপোরেশনের মেয়রের নির্দেশক্রমে তারা এখানে এসেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

You Might Also Like