হাজির না হলে খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাষ্ট্রদ্রোহের একটি এবং নাশকতার নয় মামলায় আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে।

বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে ১০ মামলায় খালেদা জিয়ার হাজির হওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে পারেননি। এজন্য তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এবং মাসুদ আহমেদ তালুকদার সময়ের আবেদন করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, ‘সোমবার খালেদা জিয়া বকশীবাজারের আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিয়েছেন। সেখানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এজন্য তিনি আজ আদালতে হাজির হতে পারেননি। আপনি (বিচারক) একটু সময় দিন।

শুনানি শেষে বিচারক খালেদা জিয়ার পক্ষে শেষ বারের মতো সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে তাকে ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ওই দিন খালেদা জিয়া হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে জানান বিচারক।

মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানার নাশকতার ৮টি, যাত্রাবাড়ী থানার ১টি ও রাষ্ট্রদ্রোহের ১টি মামলা ।

গত ৯ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা মামলাগুলোয় আজ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি দায়ের করা হয়। ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে করেন।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামের এক যাত্রী।

এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক এসআই কে এম নুরুজ্জামান। ওই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।

অন্যদিকে, ২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

গত বছরে বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলোয় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। সবগুলো মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আবেদন করা হয়। পরে খালেদা জিয়া মামলাগুলোয় আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

You Might Also Like