ট্রাম্পের আদেশে ‘মর্মাহত’ মালালা

যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসম্পর্কিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারির পর বিশ্বে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, এতে তিনি মর্মাহত।

ট্রাম্পের প্রতি মামালা আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি যেন বিশ্বের ‘সবচেয়ে নিরাপত্তাহীন’ মানুষদের পরিত্যাগ না করেন। মালালা বলেছেন, ‘সহিংসতা ও যুদ্ধের কারণে যেসব শিশু, মা ও বাবা প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের জন্য দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন- এ জন্য আমি মর্মাহত।’

নারী শিক্ষা অধিকারকর্মী মামালা (১৯) নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প সই করার কিছু সময় পর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলব, সবচেয়ে নিরাপত্তাহীন শিশু ও পরিবারগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না।’

মেয়েদের শিক্ষার অধিকারের পক্ষে কথা বলায় ২০১২ সালে পাকিস্তানে তালেবানের গুলিতে আহত মামালা ইউসুফ সুস্থ হওয়ার পর লন্ডনে বসবাস শুরু করেন এবং বিশ্বজুড়ে শিশু অধিকার নিয়ে প্রচার চালান। ২০১৪ সালে ভারতের আরেক শিশু অধিকারকর্মী কৈলাস সত্যার্থীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এত অল্প বয়সে বিশ্বে আর কেউ নোবেল পুরস্কার পাননি।

ট্রাম্পের আদেশের বিষয়ে মামালা বলেন, ‘শরণার্থী ও অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর ঐতিহাসিক গর্ব থেকে আমেরিকাকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখে আমি মর্মাহত। এই শরণার্থী ও অভিবাসীরাই আপনাদের দেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং নতুন জীবনের সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশায় কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত তারা।’

স্থানীয় সময় শুক্রবার ‘বিদেশি সন্ত্রাসী প্রবেশ থেকে জাতিকে রক্ষা’ শীর্ষক নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। ১২০ দিন বা চার মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই আদেশে।

নির্বাহী আদেশে সিরিয়ার নাম নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে। পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত সিরিয়ার কোনো শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না। এ বিষয়ে মালালা বলেন, ‘আমি মর্মাহত এই কারণে যে, সিরিয়ার যেসব শিশু ছয় বছর ধরে যুদ্ধের শিকার হচ্ছে, কিন্তু তাদের নিজেদের কোনো ভুলের জন্য নয়, তাদেরকে আলাদা করে বৈষম্যের শিকার বানানো হলো।’

You Might Also Like