নির্বাহী আদেশে টিপিপি চুক্তি প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিলেন নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এ-সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন তিনি।

১২ দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী বাণিজ্য চুক্তি ছিল টিপিপি। সদ্যসাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়া-নীতির ভিত্তিতে এ চুক্তি করা হয়েছিল।

চুক্তি প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করলাম, তা আমেরিকান কর্মজীবীদের জন্য বিশাল ব্যাপার।’
গর্ভপাত করানোয় সেবা দিয়ে থাকে- এমন সব আন্তর্জাতিক সংস্থার নামে তহবিল দেওয়া বন্ধ করেছেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বাইরে থেকে লোকবল নেওয়ার বিষয়টিও স্থগিত করেছেন ট্রাম্প।

টিপিপি চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা খানিকটা প্রতীকী বিষয়। কারণ চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে অনুমোদিত হয়নি। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে জোরালো অবস্থান থাকলেও ওবামার আমলে তা কংগ্রেসে পাস হয়নি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় ‘এই চুক্তি আমাদের দেশের জন্য সম্ভাব্য বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। তিনি যুক্তি দেখান, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে ধ্বংস করবে। চুক্তি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ট্রাম্প বাম ও ডানপন্থিদের একটি অংশের বাহবা পেয়েছেন।
ডেমোক্রেটিক সিনেটর বার্নি স্যানডার্স বিবিসিকে বলেছেন, তিনি চুক্তি প্রত্যাহার করে নেওয়াকে সমর্থন করেন। এ ধরনের চুক্তি বাণিজ্যিক বিপর্যয় ঘটাত এবং কয়েক মিলিয়ন মানুষ কাজ হারাত।

সোমবার ট্রাম্পের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের নিয়োগকে অনুমোদন দিয়েছে সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটি। এখন পূর্ণাঙ্গ সিনেটের অনুমোদন পেলেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরু করতে পারবেন টিলারসন।

এ ছাড়া সোমবার সিনেটের ভোটে সিআইএর নতুন প্রধান হিসেবে অনুমোদন পেয়েছেন মাইক পমপেও। সিনেটে ৬৬/৩২ ভোটে অনুমোদন পেয়েছেন তিনি।

টিপিপি কী?

এটি একটি বাণিজ্য চুক্তি। বিশ্বের ৪০ শতাংশ অর্থনৈতিক অঞ্চল এর আওতাভুক্ত। ২০১৫ সালে চুক্তির বিষয়ে সদস্য ১২ দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়। দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও মেক্সিকো।

সদস্যদেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এই চুক্তির লক্ষ্য। শুল্ক কমিয়ে বাণিজ্য বাড়ানোও তাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে।

শ্রম ও পরিবেশ আইন বাস্তবায়ন, কপিরাইট সংরক্ষণ, প্যাটেন্ট ও অন্যান্য আইনি বিষয়ে সুরক্ষা দেওয়া এই চুক্তির উদ্দেশ্য। চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী স্বার্থের সমর্থন ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক রেখে এর মতো আরেকটি একক বাজার সৃষ্টির প্রয়াস ছিল এই চুক্তিতে।
সমালোচকদের দৃষ্টিতে এটি এমন কোনো গোপন বিষয় নয়, যা দিয়ে চীনকে ঘায়েল করা সম্ভব হবে। এই চুক্তিতে চীন অংশ নেয়নি।
এদিকে, কর্মসপ্তাহের প্রথম দিন থেকে নির্বাহী আদেশ জারির তুবড়ি ছোটাচ্ছেন ট্রাম্প। কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে যেসব বিষয়ে সহজে নির্বাহী আদেশ জারি করা যায়, তা করছেন তিনি।

সোমবার গর্ভপাত নিরোধবিষয়ক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। যেসব বেসরকারি সংস্থা বিদেশে গর্ভপাতজনিত সেবা দিয়ে থাকে, তাদের বিদেশে সহায়তা বা কেন্দ্রীয় তহবিল না দিতে আদেশ জারি করেছেন তিনি।

এর আগে সোমবার সকালে হোয়াইট হাউসে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। ব্যবসায়ীদের তিনি বলেন, ট্যাক্স কমিয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে আনা হবে, যা এখনো ৩৫ শতাংশ রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে বেসরকারি বাণিজ্যিক খাত থেকে।

You Might Also Like