‘আইনজীবী ছেলেকে আলাদা করেন বিচারপতি রুহুল আমীন’

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, ‘প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রুহুল আমীন একজন প্রকৃত ভদ্রলোক ছিলেন। আমরাতো অযথা রেগে যাই। উনি কখনো বিরক্তি প্রকাশ করেননি। আমার জানামতে ওনার মধ্যে বিচারপতির সব গুণাবলি ছিল।’

সোমবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে প্রয়াত তিন বিচারপতির স্মরণে শোকসভায় প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট জাজেস কর্নার এ সভার আয়োজন করে।

বিচারপতি রুহুল আমীন প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর তার আইনজীবী ছেলেকে বাসা থেকে আলাদা করেন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ‘উনার এক ছেলে প্র্যাকটিসে (আইন পেশায়) আছে। আমরা কোনো দিন আকারে-ইঙ্গিতে এটা বিচারপতি রুহুল আমীনকে বুঝতে দিইনি। আমরা বলিনি উনি ছেলে ফেভার বা ডিসফেভার করছেন। কিন্তু তার ছেলেকে তিনি বাসা থেকে আলাদা করেছেন।

সদ্যপ্রয়াত আপিল বিভাগের বিচারপতি বজলুর রহমানের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ছাত্রজীবনে সবার জন্য সব কিছু করেছেন। ছাত্রদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু নিজের জন্য পরিবারের জন্য কিছু রেখে যাননি।

বিচারপতির জে এন দেব চৌধুরীর বিষয়ে বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ‘আমার জানামতে তার পরিবারের মধ্যে কেউ জজ ছিলেন না। আমি বলব (তার মৃত্যুতে) বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলো।

সুপ্রিম কোর্ট জাসেস কর্নারের সভাপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিমের পরিচালনায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন, বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবির বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জানুয়ারি সাবেক প্রধান বিচারপতি এম এম রুহুল আমীন ইন্তেকাল করেন।

আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি জে এন দেব চৌধুরী ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

You Might Also Like