ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সিরিজ হারল বাংলাদেশ

ক্রাইস্টচার্চে প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর সিরিজে টিকে থাকতে আজ জয়ের বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের। স্যাক্সটন ওভালে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়ে সেই কাজটা ভালোই করেছিল মাশরাফি-তাসকিন-সাকিবরা।

আগে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ডকে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৫১ রানেই বেঁধে ফেলেছিল বাংলাদেশি বোলাররা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ৪২.৪ ওভারে ১৮৪ রান করতেই অলআউট বাংলাদেশ। ফলে এই ম্যাচে ৬৭ রানের হারে তিন ম্যাচ ওয়ানডেতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোয়াল টাইগাররা।

সিরিজে সমতায় ফিরতে নেলসনে ২৫২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালোই হয় বাংলাদেশের। নিজেদের ইনিংসের শুরুতে দলীয় ৩০ রানের সময় তামিমকে হারায় মাশরাফির দল। দেশসেরা এ ওপেনারকে শুরুতে হারালেও ইমরুল কায়েস ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা।

তবে রানআউটের খড়্গে পড়ে হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান সাব্বিরের আউটের পরই যেন সব এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশের। মিডল অর্ডারে মাহমুদউল্লাহ-সাকিব-মোসাদ্দেকদের ব্যর্থতায় কঠিন চাপে পড়ে সফরকারীরা।

দলীয় ৩০ রানে তামিমের আউটের পর ৭৫ রানের চমৎকার জুটিতে বাংলাদেশকে অনেক দূর টেনে আনেন ইমরুল ও সাব্বির। টিম সাউদির বলে টম ল্যাথামকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার তামিম। ২৩ বলে তিনটি চারে ১৬ রান করেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশের দলীয় শতক আসে ২২তম ওভারে। যেখানে পৌঁছাতে ২৩ ওভার লেগেছিল নিউজিল্যান্ডের। তবে দলীয় শতরানের পরই ২২তম ওভারে ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান আউটের শিকার হন সাব্বির রহমান। ৪৯ বলে দুটি চার ও তিন ছক্কায় ৩৮ রান আসে হার্ডহিটার এ ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে।

গত বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডে ব্যাট হাতে ঝলক দেখালেও প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। লকি ফার্গুসনের বলে ব্যক্তিগত ১ রানে বোল্ড হন অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যান। এরপর ২৯তম ওভারে বিদায় নেন সাকিব আল হাসান। কেন উইলিয়ামসনের বলে ৭ রানে নেইল ব্রুমকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি।

দলের ব্যর্থতার দিনে ভরসা ছিল তরুণ ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেকের ওপর। কিন্তু আগের ম্যাচে ফিফটি করা মোসাদ্দেক উইলিয়ামসনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন ব্যক্তিগত ৩ রানে। এরপর ৩২তম ওভারে ইমরুল কায়েস ৫৯ রানে ফিরে গেলে জয়ের স্বপ্ন ফিকে হতে শুরু করে বাংলাদেশের। ৮৯ বলে ছয়টি চারে এ ইনিংস সাজানোর পর টিম সাউদির বলে ব্রুমের হাতে ধরা পড়েন এ ওপেনার।
এই ম্যাচে অভিষিক্ত তিন ক্রিকেটারের তেমন কেউই চমক দেখাতে পারেননি। বোলিংয়ে অনুজ্জ্বলের পর ব্যাট হাতে মাত্র দুই রানে উইলিয়ামসনের তৃতীয় শিকার হন তানভীর হায়দার। এরপর শেষ দিকে ঝড় তুলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ১৭ রানে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ট্রেন্ট বোল্টের বলে ব্রুমের হাতে ক্যাচ হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

এরপর মিচেল স্ট্যান্টনারের বলে এগিয়ে খেলতে এসে শূন্য রানে স্ট্যাম্পিং হয়ে ফেরেন তাসিকন আহমেদ। আর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নুরুল হাসান বোল্টের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ২৪ রান করেন।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে কেন উইলিয়ামসন সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট পান ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদি।

এর আগে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নেইল ব্রুমের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান করে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকদের হয়ে লুক রঞ্চি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫ এবং আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা টম লাথাম করেন ২২ রান।

বল হাতে মাশরাফি ৪৯ রানে নেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন সাকিব, তাসকিন। এ ছাড়া ১টি করে উইকেট নেন শুভাশীষ ও মোসাদ্দেক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪২.৪ ওভরে ১৮৪ (তামিম ১৬, ইমরুল ৫৯, সাব্বির ৩৮, মাহমুদউল্লাহ ১, সাকিব ৭, মোসাদ্দেক ৩, তানবীর ২, নুরুল ২৪, মাশরাফি ১৭, তাসকিন ০, শুভাশীষ ১*; বোল্ট ২/২৬, সাউদি ২/৩৩, মানরো ০/১২,, ফার্গুসন ১/৫৩, স্যান্টনার ১/২০, নিশাম ০/১৩, উইলিয়ামসন ৩/২২)।
নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৫১ (গাপটিল ০, ল্যাথাম ২২, উইলিয়ামসন ১৪, ব্রুম ১০৯*, নিশাম ২৮, মানরো ৩, রঞ্চি ৩৫, স্যান্টনার ৯, সাউদি ২, ফার্গুসন ৪, বোল্ট ১২ ; মাশরাফি ৩/৪৯, শুভাশীষ ১/৪৫, তাসকিন ২/৪৫, সাকিব ২/৪৭, তানভীর ০/৪৭, মোসাদ্দেক ১/১২)।
ফল: নিউজিল্যান্ড ৬৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: নেইল ব্রুম

You Might Also Like