বাংলাদেশে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে সরকারের দাস হয়ে কাজ করতে হচ্ছে

বর্তমানে বাংলাদেশে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে সরকারের দাস হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। চারদিক থেকে তারা শৃঙ্খলিত। তারর্পও সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্বপালন করে যাচ্ছে। মাহমুদুর রহমানের মতো সাংবাদিক যাতে দেশে তৈরি হতে না পারে সে জন্য সরকার সব ব্যবস্থা করেছে।
সোমবার ১৬ জুন ( বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৬ টা) জ্যাকসন হাইটস’র একটি রেস্টুরেন্টে রাইটার্স ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা আয়োজিত “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা” শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক বক্তরা এসব কথা বলেন।
ফোরাম সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আরিফের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ। প্রধান আলোচক ছিলেন আমারদেশ পত্রিকার নগর সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন,  জিয়া ও শেখ পরিবারের মধ্যে পার্থ্যক হচ্ছে- জিয়া পরিবার সংবাদ মাত্রদের প্রসার ্ও স্বাধীনতা বিশ্বাসী। জিয়াউর রহমান এদেশে বহুদলীয় গনতন্ত্র চালু করেন। অপরদিকে শেখ মুজিব সংবাদ মাধ্যমের কন্ঠরোধ করে একদলীয় শাসন চালু করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যাত্রা শুরুতেই হোচট খেয়েছে। সাম্য, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্টিত হলেও যেখানে ধর্মনিরেপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র সংযোজন করা হয়। যা সুস্পষ্টভাবে ভাবে স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থি।
তিনি আরো বলেন, ভারতের সংবিধানের আলোকে এদেশে সংবিধান প্রণয়ণ করা হয়। বৈদেশিক সম্পর্ক নষ্ট করে এমন বিষয়ে সাংবাদিক লিখতে পারবে এমন বিষয়টি সংবিধানে সংযোজন করার একমাত্র কারণ ভারতকে খুশি করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ধারা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে ভারতকে সবার আগে খুশি করতে হবে।
সীমান্তে বিএসএফ মানুষ মারলেও আমাদের সংবাদ পত্রে স্থান পায়না। বরং ভারতীয় হাইকমিশনের প্রেস রিলিজ ছাপা হয়।
তিনি আরো বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী তে ‘বিসমিল্লাহ’ নাই সে বিষয়ে প্রশ্ন্ও করা যাবেনা। এমনকি এটা সংবিধানে সংশোধনী আনাও যাবে না। মানুষের ধর্মীয় অনুভুতিকে আঘাত দিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বর্তমান দেশের এ অবস্থার জন্য অনেকাংশে দায়ি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসস্কৃতির সাথে আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কোন মিল নেই। আমাদের বর্তমান অবস্থার থেকে মুক্তি দরকার।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইনু হলেন বাংলাদেশের কুলাঙার। তার কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি আশা করা যায়না।
সাংবাদিক এম আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে দুবর্ল গণতান্ত্রকি ব্যবস্থা চালু থাকলেও গত ৫ জুনের নির্বাচনের মাধ্যমে সেটির দাফন হয়েছে। বর্তমানে দেশে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে দরদাস হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। চারদিক থেকে তারা শৃঙ্খলিত। তারপরও সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্বপালন করে যাচ্ছে। মাহমুদুর রহমানের মতো যাতে সাংবাদিক দেশে তৈরি হতে না পারে সে জন্য সরকার সব ব্যবস্থা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ পরিবশেন করায় তার বিরুদ্ধে সারাদেশে ২৪টি মামলা করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জয়ের দুর্নীতি প্রকাশ করার দিন তার গাড়িতে বোমা হামলা করা হয়।
মাহমুদুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিলাসী জীবনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা ছেড়ে দেশের মানুষের জন্য, মানবতার জন্য. স্বাধীনতার জন্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আমার দেশ পত্রিকা চালু এবং মাহমুদুর রহমান মুক্ত থাকলে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে হতো না। দেশে এ দুর্যোগকালীন সময়ে আরো মাহমুদুর রহমানের প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মুল প্রবন্ধে ডা. ওয়াজেদ এ খান বলেন, শেখ হাসিনা সরকার তার পিতাকে অনুসরণ করছে। কথায় কথায় পত্রিকার সম্পাদককে কাঠগড়ায় দাড় করানো হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইনকিলাব পত্রিকাও বন্ধ করে আবার খুলে দেয়া হয়েছে। সাগর-রুনিসহ অসংখ্য সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। এক ধরণের অলিখিত বিধি নিষেধ আরোপিত হয়েছে গণমাধ্যমের উপর। এ অবস্থা দেশ ও জাতির জন্য কোন ক্রমেই কাম্য হতে পারেনা। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যম পারে তথ্য বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে।
সোলায়মান ভ্ইুয়া বলেন, স্বাধীনতার পর অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে। গণতন্ত্রনের জন্য ১৭ বছর রাজনীতি করে বঙ্গবন্ধু রাজনীতিকে হত্যা করেছিলেন। বর্তমান সরর্কাও প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার পথ অনুসরণ করছে। তিনি আমেরিকায় কর্মরত সাংবাদিকদের এদেশীয় পত্রিকাকায় লেখালেখির আহবাণ জানান।
জয়নাল আবেদীন বলেন, সাংবাদিকদের কতজন তাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কাজ করে? বর্তমানে মাহমুদুর রহমানের মতো সাহসী সাংবাদিক দরকার। সাংবাদিকরা নিজেরাই বিক্রি হয়ে যায়। তখন স্বভাবতই নিদির্ষ্ট দলের হয়ে কাজ করতে হয়। সাংবাদিকতা এখন পেশা না এটি এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
আবু জাফর মাহমুদ বলেন, স্বাধীন মানুষের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম দরকার। আমরা যেহেতু কেউ স্বাধীন নাই, সে জন্য গণমাধ্যম স্বাধীনতার প্রশ্ন আসেনা। ভারতের রনজাত সিঙ বাংলাদেশের নিদির্ষ্ট অঞ্চল দখল করার ঘোষণা দিলেও দেশের কোন গণমাধ্যম সেটি নিয়ে কোন প্রতিবেদন ছাপানো হয়নি।
সাংবাদিক তাসের খান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো দখল করে আছে ভূমিদস্যু এবং কালোটাকার মালিকদের হাতে। তারা ক্ষমতাবান সঙ্গে আপোস করে চলছে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই সে রাজাকার।
সাংবাদিক রিমন ইসলাম বলেন, একটি দেশের সংবাদ মাধ্যমের সাথে সে দেশের আর্থ-সামজিক ও রাজনৈতিক ব্যাপার জড়িত। একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন ও মূল ধারার বাইরে রেখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্ভব না। তিনি আরো বলেন, শুধু সরকারের পতন ঘটলেই সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা সম্ভভ নয়। প্রতি সরকারের সময়ই সংবাদমাধ্যমের কন্ঠরোধ করা হয়েছে। তবে এ সরকারের সময় অনেক বেশি পরিমানে হচ্ছে।
জাগফা যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি রহমত উল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনা দেশ শাসন করতে আসেনি, এসেছে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে। দেশে কোন গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র হলো শেখ হাসিনা যা বলবে তাই করা। গণমাধ্যম তার ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে পারলে অনেক আগেই হাসিনার পতন ঘটতো। জাতিকে মুক্ত করতে হলো হাসিনাকে গদি থেকে নামানোর কোন বিকল্প নেই।
এ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার হলো র‌্যাব-পুলিশ সরকার। তাদের  ওপর ভর করেই এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে ও  টিকে আছে। বাংলাদেশের মানুষ এ সরকারকে অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে চিরতরে বিদায় করবে।
এনামুল হক চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমই কেবল একটি দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে পারে। সাংবাদিকদের বিভাজন বর্তমান অবস্থা দীয় বলে অভিযোগ করেন।
আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, হেলাল উদ্দিন, মাহতাব উদ্দিন, মীর মাসুম আলী, ফখরুল ইসলাম মাসুম, গীতিকার সাকিনা ডেনি।
এছাড়ও উপস্থিত ছিলেন, শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক হাসানুজ্জামান সাকী, সাংবাদিক আলমাগীর হোসাইন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল হক, আবুল হাসেম শাহাদাত, এমলাক হোসেন ফয়সল, সাংবাদিক ইমরানা আনসারী, নঈম উদ্দিন, এমদাদুল হক কামাল, আজাদ বাকির, আব্দুস সবুর, মোশারফ হোসাইন, নুরুল করিম মোল্লা, মাওলানা রশিদ আহমদ, ফখরুল ইসলাম, আরাফাত রহমান প্রমুখ।

You Might Also Like