বেসরকারিভাবে জয়ী আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী।

১৭৪টি কেন্দ্রে সেলিনা হায়াৎ আইভী পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৭০০ ভোট। সাখাওয়াত হোসেন খানের চেয়ে ৭৭ হাজার ৯০২ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

সেলিনা হায়াৎ আইভীর জয়ের খবরে তার সমর্থক ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উল্লাসে মেতে ওঠে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে।

এর আগে ভোট দিতে এসে সেলিনা হায়াৎ আইভী সকালে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে নৌকার বিজয় হবে।

অপরদিকে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জনগণের রায় মেনে নেব। সরকার এমন কোনো আচরণ করবে না যাতে আমরা নির্বাচন থেকে সরে আসতে বাধ্য হই।’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান প্রকাশ্যে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ভোট দেন।

দ্বিতীয়বারের মতো হওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬২ জন পুরুষ ও ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৯ জন নারী।

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াই করেন সাত প্রার্থী। ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৫৬ এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত নয়টি ওয়ার্ডে ৩৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটা রেকর্ড। এই নির্বাচনের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনি আমাদের বারবার বলেছিলেন, সবাইকে বলে দাও, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। এই নির্বাচন সেভাবেই হয়েছে। এতে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। আমি কথা দিচ্ছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার করার ব্যবস্থা করব।’

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, বাহ্যিকভাবে সারা দিন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পর্দার অন্তরালে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় সূক্ষ্ম বা স্থুল ইঞ্জিনিয়ারিং ঘটতে পারে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে আগামী ২৪ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত সভা-সমাবেশ ও বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

You Might Also Like