ওয়াসিংটন ডিসিতে বিজয় মেলা ও পৌষ পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

জাহিদ রহমান : ওয়াসিংটন ডিসিতে বিজয় মেলা ও পৌষ পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১৭ ডিসেম্বর শনিবার । বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট ইনক্- (বিসিসিডিআই) ও বাংলা স্কুল আয়োজিত নর্দান ভার্জিনিয়া কমিউনিটি কলেজে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী দর্শকের সমাগম ঘটে।
সন্ধ্যার আয়োজনে ছিল বিজয়ের দিবসের নানা অনুষ্ঠান। মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধ্যা নিবেদন করে নির্মিত অস্থায়ী প্রতিকী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন প্রবাসী বাংলাদেশী ও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। শহীদ মিনার নির্মান করেন সমাজ সেবক আব্দুর রশিদ।
যেসব সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন তারা হলেন-
বাংলাদেশ দূতাবাস, বিসিসিডিআই, বাগডিসি, বাই, আবিয়া, আগামী, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এ্যলামনাই এসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ্যলামনাই এসোসিয়েশন, উদয়ন ফাউন্ডেশন এবং এ্যম্পাওয়ার বাংলাদেশ। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন।
এছাড়া ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের দুর্বার আন্দোলন ও বিজয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আলোচনা সভা ও দেশাত্ববোধক গানের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় সেই সব বীর শহীদদের। যাদের আত্মত্যাগে জন্ম হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।
সঞ্জয় বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ শামিম চৌধুরী।কমিউনিটির নারী উদ্দোক্তা ডেটাএনটেকের সিইও শিরিন আক্তারের হাতে সম্মাননা তুলে দেন সঞ্জয় বড়ুয়া।
bijoy-pithawash_2bijoy-pithawash_3সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পূর্বে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিজয়ের উপর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়- “এসো আঁকি বিজয়ের রঙ্গে”। প্রচুর ছেলেময়েরা এতে অংশগ্রহণ করে।
পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন এতদঞ্চলের জনপ্রিয় এবং সর্বজন পরিচিত সঞ্চালক- শতরুপা বড়ুয়া, সাথে ছিলেন আতিয়া মাহজাবিন নিতু এবং দীপক বড়ুয়া।
আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী শীতকালীন পিঠা উৎসব। বাংলার গ্রামীন জনপদের সহজ সরল অনারম্বর জীবনধারায় মায়ার স্পর্শে সিক্ত অন্যতম ঐতিহ্য এই পিঠা উৎসব। বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পায়েসের ঢালি সাজিয়েছিলেন বিক্রমপুর পিঠা ঘর, রকমারী খাবার ঘর, পিঠা ঘর, ভাই ভাবির দোয়ান, ঝাল টক মিষ্টি, পিঠা পল্লী, রসনা বিলাস ইত্যাদি। টেবিল জুড়ে ছিল পাটিশাপটা, ভাপা, ফিলিস, দুধ পাকন, নারিকেল পাকন, নকশী, মুগ ভাপা, হৃদয় হরণ, চিতই, দুধ চিতই, আলু পিঠা, ডিমের পিঠা, তিলের পিঠা, ঝাল পিঠা, মাছ পিঠা, গোলাপ পিঠা, মালপোয়া, নারিকেল, মেড়া, লবঙ্গ, খেজুর রসের নকশী পিঠা, বিবি খানা, ভিজা পিঠা, শামুক পিঠা, দিলখোলা পিঠা, মিটলোফ পিঠা, বালু পিঠা, ডাল পাক পিঠা, তিলপুলি, ঝুলঝুলি পিঠা, খিরমুখ, শৈলী পিঠা, মুগ পাকন, ঝাল পাটিসাপটাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার রকমারী পিঠা।
অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পন্সর ছিলন এম. হুদা অনু’র জি টেক সাইবার সিকিউরিটি ট্রেনিং আইটি স্কুল। গোল্ড স্পন্সর রিয়েলটর আনিসি খান’র রি ম্যাক্স এলিজেন্স এবং সিলভার স্পন্সর মর্টগেজ এডভাইজার দিলাল আহমেদ’র ফেয়ারওয়ে।

You Might Also Like