পুলিশি বাধায় রোহিঙ্গাদের সমর্থনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লংমার্চ বাতিল

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিয়ানমার অভিমুখে আজকের ঘোষিত লংমার্চ শুরুর আগেই পুলিশি বাধার কারণে বাতিল করা হয়েছে।

মিয়ানমারে সংখ‌্যালঘু মুসলমানদের ওপর হত্যা, নির্যাতন বন্ধ করা, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়া এবং রাখাইনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনসহ কয়েকটি দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম আগেই এই লংমার্চের ঘোষণা দেন।

ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে গাড়িতে করে কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমারে যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা করারও কথা ছিল।

সে অনুযায়ী দলটির নেতাকর্মীরা রোববার সকাল থেকে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে জড়ো হতে শুরু করলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্টন মোড়সহ আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বায়তুল মোকাররমে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের অনেকেই অভিযোগ করেন, লংমার্চে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় আসার পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তাদের কর্মীরা।

বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাইতুল মোকাররম এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সাঁজোয়া যান, জল কামান ও রায়টকারও প্রস্তুত থাকতে দেখা যায়।

এ সময় বিক্ষোভকারিরা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেইটে অবস্থান নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। এ সময় তাদের অনেকের মুখে সরকারবিরোধী স্লোগানও শোনা যায়। বেলা সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত একটি খোলা ট্রাকে চড়ে সমাবেশে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা। পুলিশ লংমার্চে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারও করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

এরপর ‘লংমার্চে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে’ ২৩ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর সব জেলায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি জানান, “পরামর্শ করে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা দেব।”

সংগঠনটির নায়েবে আমির ফয়জুল করীম বলেন, “হত্যা-নির্যাতন বন্ধ করেন, নইলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে মিয়ানমার দখল করে নেব।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র যুগ্ম-মহাসচিব কাজী আতাউর রহমান বলেন, “রোহিঙ্গারা আরাকানের (বর্তমান নাম রাখাইন) নাগরিক না হলে আরাকানও মিয়ানমারের অংশ না। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক হলে আরাকানও বাংলাদেশের।”

মিয়ানমারে হত্যা-নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশ সরকার পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় সংসদ ভবন অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণাও দেন আমির ফয়জুল করীম।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যখন আপনার পরিবারের বেদনাবিধুর ইতিহাস বর্ণনা করেন তখন আপনার চোখ দিয়ে পানি ঝরে। আজকে রোহিঙ্গাদের এভাবে কচুকাটা করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে- আপনার মনে একটুও ব্যথা নেই, আপনার এই আচরণকে আমরা ধিক্কার জানাই।”

You Might Also Like