ভোট নিয়ে শঙ্কা, কমিশনে আস্থা নেই প্রার্থীদের

নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশ্বাস দেওয়া সত্বেও ভোট নিয়ে শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়া মেয়র প্রার্থীরা। সরকারদলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্যরা বলছেন, ভোটারদের মধ্যেও তাঁরা ভয় ও শঙ্কা দেখছেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রার্থীদের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দিয়েছে। প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার ব্যাপারে এখনই তাঁরা দৃশ্যমান কিছু পদক্ষেপ দেখতে চান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা হওয়া অভিযোগগুলো সুরাহা করা। প্রার্থীরা আরও বলছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের তেমন তৎপরতা না থাকার কারণে তাঁদের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া, কালোটাকার ছড়াছড়ি, সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মকাণ্ড এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের নির্বাচনে প্রভাব সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে তাঁদের মধ্যে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে প্রার্থীরা ভোট নিয়ে তাঁদের নানা শঙ্কার কথা জানান। কমিশনকে শক্ত অবস্থান নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।

জবাবে সিইসি প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আশ্বস্ত হোন, একটিমাত্র নির্বাচন হচ্ছে, সারা দেশে আর কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। আমার কাছে অনেক ফোর্স আছে। মোবাইল কোর্টের সংখ্যাও প্রয়োজনে বাড়ানো হবে।’ সিইসি আরও বলেন, এই নির্বাচনকে তাঁরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যা করা দরকার তা করা হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্দেশ করে সিইসি বলেন, দুষ্কৃতকারীদের দুষ্কৃতকারী হিসেবেই দেখতে হবে। সব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অযথা যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেন তিনি।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত বুধবার পর্যন্ত তাঁদের কাছে মোট ১১৩টি অভিযোগ এসেছে। কিছু ঘটনা তদন্ত করে তাঁরা প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মৌখিক বা ফোনে বার্তা দিয়ে সতর্ক করেছেন।

আরও জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান তেমন নেই। তবে ২৭টি আদালত সেখানে কাজ করছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানা কারণে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর অস্ত্র উদ্ধার, অস্ত্র জমা নেওয়া ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে বিশেষ কোনো অভিযান এখন চলছে না।

জেলা পুলিশ সুপার মইনুল হক মতবিনিময় সভায় বলেন, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এখন সিটি করপোরেশন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। সামাজিক অপরাধও কমেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করবেন।

You Might Also Like