আলেপ্পোয় আশার সঞ্চার

সিরিয়ার আলেপ্পোয় বিদ্রোহীদের জন্য আবার আশার সঞ্চার হয়েছে।

বিদ্রোহী ও সরকারপন্থি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, নতুন করে যুদ্ধবিরত কার্যকর হয়েছে এবং স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে।

বুধবার সকালে আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহীদের স্থানান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ায় তা থমকে যায়। তবে বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে আবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এদিন সকাল থেকে বিদ্রোহীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা। তবে এ ধরনের কোনো খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের হয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ করা হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ও আসাদের সমর্থক রুশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিদ্রোহীদের স্থানান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার সকালে সিরিয়া সরকারের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, পূর্ব আলেপ্পোর বন্দুকধারীদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

লেবাননের শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম ইউনিটের খবরে বলা হয়েছে, সেখানে বড় ধরনের জটিলতা রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ হয়েছে এবং পূর্ব আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহীদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে।

রাশিয়ার গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদের সমর্থনকারী রাশিয়ার সেনারা বিদ্রোহী যোদ্ধাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রুশ সেনাদের পাহারায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সে করে ইদলিব প্রদেশে বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে তাদের পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাশিয়ার ড্রোন থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, সিরিয়া সরকার তাদের নিশ্চিত করেছে, আলেপ্পো ছেড়ে যেতে চায়- এমন অস্ত্রধারী যোদ্ধাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হোয়াইট হেলমেটের সদস্য ইসমাইল আলাবদুল্লাহ জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা যে এলাকায় আছেন, সেখানে বাসগুলো অবস্থান নিয়েছে। ওই এলাকায় কাজ করেন আলাবদুল্লাহ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, শিগগিরই স্থানান্তর শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিদ্রোহীদের হাতে। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকে পশ্চিম আলেপ্পো। আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই চলেছে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে সরকারি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় কোনঠাঁসা হয়ে পড়ে বিদ্রোহীগোষ্ঠী। গত সোমবার তারা আত্মসমর্পণ করে এবং সেখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা ভেস্তে যায়। ব্যাপক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আলেপ্পো। ধারণা করা হচ্ছিল, আবার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে আবার যুদ্ধবিরতি হয়েছে।

You Might Also Like