বিশ্বকাপ ফুটবল : প্রবাসীরা কে কি ভাবছেন?

ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে শুরু হয়েছে ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধ। ফুটবল জ্বরে ভুগছেন দেশ-বিদেশের কোটি কোটি ফুটবল প্রেমীরা। এই বিশ্বযুদ্ধ যতই এগিয়ে যাচ্ছে ততই উত্তেজানা, উদ্বেগ, উৎকন্ঠা, জল্পনা-কল্পনা আর ভবিষ্যতবাণী চলছে। সবার আগে প্রশ্ন উঠছে কে হচ্ছে এবারের ফুটবল যুদ্ধে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন? কোন দুটি দল খেলছে ফাইনালে? ইত্যাদি ইত্যাদি। গত ১২ জুন বৃহস্প্রতিবার থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে স্বাগতিক ব্রাজিল ৩-১ গোলে ক্রুয়েশিয়াকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে। দ্বিতীয় খেলায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫-১ গোলে নেদারল্যান্ড হারিয়ে অঘটন ঘটিয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে নিউইয়র্কবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটিতেও চলছে উন্মাদনা। তাদের ভাবনা নিয়েই ইউএনএ’র এই বিশেষ প্রতিবেদন।

মনজুর আহমেদ চৌধুরী

Monjur Ahmed Chow.বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক, সিলেটের সন্তান, বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনজুর আহমেদ চৌধুরী তার বিশ্বকাপ ভাবনায় বলেন, আমি আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হলেও আমার পুত্র লাবিব চৌধুরী জার্মানীর সমর্থক। কাজ শেষে বাসায় ফিরে ছেলেকে সাথে নিয়ে বিশ্বকাপের খেলাগুলো দেখার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা শুরু হলেই দেশে থাকাকালীন বিশ্বকাপের ফুটবল খেলা দেখার স্মৃতি খুব মনে পড়ে। দেশে খেলা দেখা ছিলো প্রথম কাজ। এমনকি খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়ে আগে খেলা দেখতাম। সবাই মিলে খেলা দেখার আন্দই ছিলো আলাদা। আর এখানে কাজ আগে, খেলা পড়ে। তারপরও যতটুকু দেখতে পারছি তাতে ভালোলই লাগছে। এখনকার হিসেবে তার মতে আর্জেন্টিনা আর নেদারল্যান্ড ফাইনালে খেলতে পারে।

মিসবাহ আহমেদ

Misbah Ahmedবিশিষ্ট সংগঠক, সাবেক ফুটবলার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ বিশ্বকাপ ফুটবল ভাবনায় বলেন, ২৮ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছি। দেশে থাকাকালে বিশ্বকাপের খেলা দেখা আর প্রবাস জীবনে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা দেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য। ব্রাজিলের সমর্থক মিসবাহ আহমেদ বলেন, ছোটবেলায় নিয়মিত ফুটবল খেলতাম। আমাদের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলায় গ্রামে আমাদের ক্লাবের সদস্য হিসেবে অনেক জায়গায় ফুটবল খেলেছি। নিউইয়র্কে বিয়ানীবাজার সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক থাকাকালীন লাল-সবুজ দলের মধ্যে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করতাম। ১৯৮৯ সাথে নিউজার্সীতে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সী দলের মধ্যেকার খেলায় অংশ নেই। আমি নিউইয়র্ক দলের স্টাইকার ছিলাম। সেই খেলায় আমরা জয়ী হলেও আমার পা ভেঙ্গে যায়। যার স্মৃতি এখনো আমি বয়ে বেড়াচ্ছি। তিনি বলেন, রাত জেগে সবাইকে নিয়ে খেলা দেখার যে আনন্দ, সেই আনন্দ প্রবাস জীবনে নেই। তার ভাবনায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনালে খেলবে।

ওয়াহিদ কাজী এলিন

Wahid Kazi Elinবিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক, ঢাকা আবাহনী ক্রীড়া চক্রের সাবেক ক্লাব ম্যানেজার এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকার কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদ কাজী এলিন বলেন, ১৯৮২ সাল থেকেই প্রিয় ফুটবলার দিয়াগো ম্যারাডোনার জন্য তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী হওয়ার পর থেকে তিনি প্রথমত: আমেরিকার দ্বিতীয়ত: আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার ভাবনায় ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানী বা নেদারল্যান্ড দলের মধ্যে যেকোন দু’টি দল। খুলনা শহরের সন্তান এলিন বলেন, তিনি ১৯ বছর ধরে নিউইয়র্ক প্রবাসী। দেশে বাসায় বা ক্লাবে বন্ধুদের নিয়ে রাত জেগে খেলা দেখে আনন্দ পেতেন, প্রবাসী জীবনে সেই সুযোগ নেই বলে আনন্দে ভাড়া পড়েছে।

Monirul Islamমনিরুল ইসলাম

বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা আয়োজিত চলতি বাকডাইস ও আবদীন ব্রাদার্স ফুটবল লীগে অংশগ্রহণকারী বাংলদেশ ব্রাদার্স এলায়েন্স দলের প্রেসিডেন্ট, ফুটবলার মনিরুল ইসলাম বলেন, ২২ ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। এখন ওজনপার্কের বাসিন্দা। তিনি আর্জোন্টিনার সমর্থক। তার ভাবনায় ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা, জার্মানী, নেদারল্যান্ড আর ব্রাজিল দলের মধ্যে দুটি দল। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলাগুলো সরাসরি দেখেছেন। সেই আনন্দ ভুলবার নয়, ভুলবার নয় দেশে রাত জেগে বন্ধুরা মিলে খেলা দেখার আনন্দ। খেলা দেখায় দেশের মতো প্রবাসে তেমন কোলাহল নেই। কাজ থেকে বাসয় ফিরে বিকেলে ঘরে বসে খেলা দেখেন তিনি।

জাফর আহমেদ

Jafor Ahmedবাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা আয়োজিত চলতি বাকডাইস-আবদীন ব্রাদার্স ফুটবল লীগ’২০১৪-এর মাঠে (সিটির এলমহার্স্টস্থ নিউ টাউন অ্যাথলেটিক মাঠে)। গত রোববার কথা হলো ঢাকা ওয়ারী আর রহমতগঞ্জের সাবেক ফুটবলার এবং নিউইয়র্কের মোহামেডান দলে খেলোয়ার জাফর আহমেদের সাথে। সাথে নিয়ে এসেছিলেন তার একমাত্র পুত্র জাহিনকে (৭)। জাফর ব্রাজিলের সমর্থক হলেও তার ছেলে জাহিন আর্জেন্টিনার সমর্থক। ১৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জাফর ম্যাসির জন্যই আর্জোন্টিনার সমর্থক বলে এই প্রতিবেদককে জানান। মিস করে দেশের বন্ধুদের, যাদের নিয়ে একসাথে রাত জেগে বিশ্বকাপের খেলাগুলো দেখতেন। বাস্তবতার কারণেই এখন তো আর সেই আনন্দ পাওয়ার সুযোগ নেই বললেন, জাফর।

শাহীন-আসমা দম্পতি

নিউইয়র্কের উডসাইডে বাস করেন শাহীন-আসমা দম্পতি। জামানীর সমর্থক পাবনার শহরের সন্তান মোহাম্মদ শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, অন্য সবার মতো আমিও আগ্রহ-উৎসাহ নিয়ে খেলা দেখার চেষ্টা করছি। কাজ থেকে বাসায় ফিরে খেলাগুলো দেখছি। আবার অনেক সময় কাজের জন্য খেলা দেখা সম্ভব হয় না বলে খারাপও লাগে। তবে যে খেলাগুলো দেখতে পারি না তখন খেলার খবরের সময় রেজাল্টগুলো জেনে নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে থাকাকালে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা দেখার আলাদা মজা ছিলো। তখন কৈশর বয়সে কোন বন্ধুর বাসায়, নয় আমাদের বাসায় সব বন্ধুরা মিলে রাত জেগে এক সাথে খেলাগুলো দেখতাম। আজ এই নিউইয়র্কে বসে খেলা দেখার সময় কৈশরের সেই বন্ধুদের খুব মনে পড়ছে। বন্ধুদের মধ্যে নান্ন,ু আসাদ, আেলাকের নাম খুব মনে পড়ছে। দেশে থাকতে কোন খেলা দেখা বাদ যেতো না। আমাদের সমর্থক দল জিতলে রাতেই বন্ধুরা মিলে শহরে মিছিল বের করতাম। তার মতে ব্রাজিল আর জার্মান ফাইনালে খেলবে এবং জার্মান ২-১ গোলে জিতবে। তিনি বলেন, এক সময় ব্রাজিলের সমর্থক থাকলেও এবার তিনি জামার্ন সমর্থন করছেন।

শাহীনের স্ত্রী কুষ্টিয়া জেলা শহরের কোর্টপাড়া কলেজ মোড়ে এলাকার সন্তান আসমা আক্তার (আসমা) ব্রাজিলের সমর্থক তিনি। গৃহিনী আসমা বলেন, খেলা দেখার তেমন সময় পাই না, তাই খেলা দেখা হয়না। তবে খেলা নিয়ে আড্ডা হলে সবার সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করি।

বাপন-লিমা দম্পতি

Jafor Ahmed Baponবাপন-লিমা দম্পতি বাস করেন নিউইয়র্কের উযসাইডে। বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার যশোর্দী গ্রামের সন্তান শেখ আবু সাদেক (বাপন) আর্জেটিনা দলের সমর্থক। তিনি বলেন কাজ থেকে একটু তাড়াতাড়ি বাসয় ফিরে তিনি বিকেলে ঘরে বসে খেলাগুলো দেখেন। ১৯৮৬ সাল থেকেই তিনি আর্জেটিনার সমর্থক। দেশীয় ফুটবলে মোহামেডানের সমর্থক বাপন বলেন, কোন দল ফাইনালে খেলবে তা এখনো বলা মুশকিল তবে, ব্রাজিল, জার্মানী, নেদারল্যান্ড, আর্জেটিনা ফাইনালে যেতে পারে মনে আপাতত: তিনি মনে করেন। বাংলাদেশে রাত জেগে চা খেতে খেতে সবাই মিলে খেলা দেখার আনন্দটা এই প্রসাবে মিস করেন বাপন। বেশী মিস করেন নিজ সমর্থিত দলে পতাকা উড়ানো আর পতাকা নিয়ে মিছ করা।

বাপনের স্ত্রী খুলনার সন্তান, গৃহিনী ওয়ালিয়া সাদিক (লিমা) ব্রাজিলের সমর্থক। দেশে থাকতে ছোট বেলায় আবু আর কাকু, ভাই-বোন মিলে এক সাথে বসে ািবশ্বকাপের খেলা দেখতাম। তখন ফুটবল খেলা কি তা না বুঝলেও গোল হওয়াটা বুঝতাম এবং ভালো লাগতো। চা খেতে খেতে রাত জেগে খেলা দেখতাম। তবে হৈচৈ করতাম। তিনি বলেন আমার বাবা শেখ আব্দুল ওয়াহাব আর চাচা আবুল কালাম আজাদ তারা আর্জিনার গোড়া সমর্থক থাকায় আমি ব্রাজিল সমর্থক ছিলাম। তিনি বরেন বেশীরভাগ সময় আমরা স¦ামী-স্ত্রী মিলে ঘরে বসে খেলা দেখি। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে আমার স্বামী আর্জিটিনার সমর্থক হলেও আমরা উভয়েই খেলা সমানভাবে উপভোগ করি।

শেফালী-শেলী (দুই বোন)

Shefally-Shellyনিউইয়র্কে বসবাসকারী মাহমুদা শেফালী ও মাহবুবা শেলী পিঠাপেঠী দুই বোন। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সন্তান তাদের একজন বাস করেন জ্যামাইকায়, আরেকজন বাস করেন রিচমন্ড হীলে। উভয়ে গৃহিনী। চেহারা, চাল-চলন, চিন্তা-চেতনা আর রুচিতে প্রায় একই রকম। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শেফালী-শেলী উভয়ই আর্জেটিনা দলের সমর্থক। মুলত: জগতখ্যাত ফুটবলার ম্যারাডোনার খেলা দেখে তারা আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়ে যান। ছোট বেলায় তারা মা-বাবা, ভাই-বোন মিলে বাসায় রাত জেকে বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলাগুলো দেখতেন। খেলা-দেখার  ফাঁকে ফাঁকে চা-মুড়ি খেতেন। তারা জানান, এখন খেলা দেখার ইচ্ছে থাকলেও বাচ্চাদের দেখাশুনা আর সাংসারিক কাজ করতে করতেই তাদের সময় চলে যায়। পরিবারের সবাই মিলে খেলা দেখার আনন্দাই আলাদা, তাই ফুটবলে বিশ্বকাপ জেতার লড়াইয়ের সময় মিস করেন মরহুম বাবা মোহাম্মদ খুরশীদ আলী, মা হাবিবা খাতুন, বড় ভাই মোর্শেদ আলী, মেঝো ভাই আর্শেদ আলী ও ছোট ভাই মোস্তফা আলীকে।

রুমান-সুইটি দম্পতি

নিউইয়র্কের রিচমন্ড হীলের বাসিন্দা রুমান-সুইটি দম্পতি। ব্রাজিলের সমর্থক ব্রক্ষণবাড়িয়া শহরের সন্তান রিচমন্ড হীলবাসী সাইদুল বাসার খান  (রুমান) বলেন, স্টাইলীট দল হিসেবে ব্রাজিলকেই তার পছন্দ। এই দলের খেলোয়ারদের মধ্যে অন্যরকম ছন্দ দেখতে পাই। তার মতে ব্রাজিল, আর্জোটিনা বা জার্মানির মধ্যে দু’টি দল ফাইনালে খেলবে। তিনি বলেন, খেলা দেখার জন্য আগেভাগেই কাজ থেকে ফিরে খেলাগুলো দেখার চেষ্টা করি। তবে একা একা খেলা দেখে মজা পাই না। দেশে সবাই মিলে হৈচৈ করে খেলাগুলো দেখতাম। খুব মজা লাগলো। আর আমাদের সমর্থক দল জিতলে রাতেই পাড়ায় মিছিল বের করতাম।  ব্রাজিল জিতলেও আমার প্রত্যাশিত খেলা দেখাতে পারেনি। নেদারল্যান্ড আর স্পেনের খেলায় নেদারল্যান্ড দাপটের সাথেই খেলে জিতেছে।

অপরদিকে নরসিংদী জেলার রায়পুড়া উপজেলার সন্তান রুমানের স্ত্রী, গৃহনী নাসরিন জাহান সুইটি এক সন্তানের জননী। তিনি ব্রাজিলের সমর্থক। তিনি বলেন, সাংসারিক কাজের চাপে খেলা সুখার সময় পান না। তবে সময় সুযোগ পেলে খেলা দেখার ইচ্ছে তার।

তানজিহা নূজহাত (অরিন)

Tanjiha Nujhat Orinকিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার সন্তান নিউইয়র্কের সাতফিন বুলেভার্ডে বসবাসকারী তানজিহা নূজহাত (অরিন) বলেন, ফুটবল খেলা নিয়ে আমার কোন আগ্রহ নেই। তবে আমি ক্রিকেট খেলার ভক্ত। তিনি বলেন, দুই বাচ্চা নিয়ে সংসারের চাপে খেলা দেখার সুযোগও পাই না। তবে বাচ্চারা যখন ফুটবল নিয়ে খেলা করে তখন আনন্দ পাই। সেই সাথে বাচ্চারা যখন ফুটবল খেলতে গিয়ে জিনিসপত্র ভাঙ্গচুর করে তখন খুব খারাপ লাগে।

রাসেল রহমান

Rashel Rahmanব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা শহরের সন্তান, রিচমন্ড হীলে বসবাসকারী রাসেল রহমান বলেন, তিনি ব্রাজিলের সমর্থক। কাজ থেকে ফিরেই তিনি খেলাগুলো দেখে থাকেন। আবার প্রয়োজনে ইন্টারনেটে সার্চ করে খেলাগুলো দেখেন। ব্রাজিল, উরুগুয়ে, স্পেন ফাইলে খেলার সম্ভবানা রয়েছে। তিনি বলেন, নিরিবিলি পরিবেশে বাসায় বসে এক্ াএকাই খেলা দেখতে ভালো লাগে। খেলাগুলো দেখতেস গিয়ে দেশের শৈশব-কৈশৈারের স্মৃতিগুলো খাব মনে পড়ে। মনে পড়ে আমার সমর্থিত দলের পতাকা উড়িয়ে মিছিল করার কথা।

মামুনুর রশীদ (পলাশ)

Mamunur Rashid Palashনোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের সন্তান মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ (পলাশ) ব্রাজিল দলের সমর্থক। বাস করেন নিউইয়র্কের রিচমন্ডহীলে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও খেলা দেখার সুযোগ না পাওয়ায় খেলার হাইলাইটসগুলো দেখে মনের খোরাক যোগান। তার মতে ব্রাজিল-জার্মানী ফাইনালে খেলবে। দেশে খেলা দেখতাম পরিবার-পরিজন আর বন্ধুদের নিয়ে। এখানেই সেই পরিবেশ নেই বলে তাদের খুব মিস করি। তিনি বলেন, দেশে থাকতে রাত জেগে খেলা দেখার মজাই ছিলো আলাদা। অনেকের মতো তিনি মনে করেন, মেসি এবারের বিশ্বকাপে তার জীবনের সেরা চমক দেখাবে, সেই সাথে সেরা খেলোয়ার হবে।

মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম

Zahirul Islamনোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাদী নগর গ্রামের সন্তান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ব্রাজিলের সমর্থক। তিনি বলেন, কাজের জন্য সময় করে টিভিতে খেলা দেখার সময় পাই না। তবে মোবাইলে প্রিয়দলের খেলাগুলো দেখার চেষ্টা করেন। তার মতে ফাইনালে ব্রাজিলের সাথে ইটালী খেলবে। বাংলাদেশে থাকতে ১৯৮৬ সাল থেকেই নিয়মিত বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলাগুলো দেখতেন। রাত জেগে সবাই মিলে খেলা দেখার আনন্দ মিস করেন তিনি। মিস করেন বন্ধুদের। বিশেষ করে বর্তমানে অসুস্থ্য খুরশীদ আলম নামের এক বন্ধুকে খুব মিস করছেন তিনি। জহির তার বন্ধুর সুস্থ্যতায় সকল প্রবাসীর দোয়া কামনা করেন।

শহীদুল ইসলাম খান

Saidul Basar Khan Rumanটাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সন্তান মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান সপরিবারে বাস করেন রিচমন্ডহীলে। তিনি আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। তার মতে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাই বেশী। তবে জার্মান-হল্যান্ডও ফাইনালে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই গ্রামের মাঠে, স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলতাম। বিশ্বকাপের খেলার সময় রাত জেগে, বন্ধুরা মিলে হৈচৈ করে খেলা দেখতাম, আনন্দ পেতাম। সেই আনন্দ এই প্রবাসে পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই শৈশব-কৈশরের দিগুলো, সেই সময়ের বিশ্বকাপ খেলার দিনগুলো খুব মিস করছি। তিনি বলেন, এবারের বিশ্বকপ ফুটবলের খেলায় বেশ অঘটন ঘটবে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডের ৫-১ গোলে জয় প্রথম অঘটন। তাছাড়া প্রথম খেলায় ক্রেয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ৩-১ গোলে জয় ব্রাজিলের জন্য শুভ সূচনা হলেও খেলাগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা আর উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে প্রতিটি খেলাই ফাইনাল খেলা।

খালেদ লাদি

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সন্তান খারেদ লাদি। বয়স ১৬/১৭। মাত্র ছয় মাস আগে নিউইয়র্ক এসেছেন। গত রোববার ওজনপার্কে তার এক আত্বীয়র স্টোরে বসে কম্পিউটারে বিশ্বকাপের খেলা দেখছিলেন। খেলা দেখার এক ফাঁকে কথা হলো তার সাথে। ব্রাজিলের সমর্থক খালেদ দৃঢ়তার সাথে বললেন, ফাইনালে খেলবে ব্রাজিল আর ইতালি। তার মতে নেদারল্যান্ড আর স্পেনের খেলাটি এপর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপের বড় অঘটন। বিশ্বকাপ ফুটবলের সবকটি খেলাই তার দেখার ইচ্ছে রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ (ইউএনএ)

You Might Also Like