ইস্তাম্বুলে রক্তপাত: কুর্দি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা, গ্রেপ্তার শতাধিক

ইস্তাম্বুলের একটি স্টেডিয়ামের পাশে জোড়া বোমা বিস্ফোরণে কয়েক ডজন লোকের হতাহতের ঘটনায় তুর্কি যুদ্ধবিমান কুর্দি জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে শুরু করেছে।

রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে শুরু হওয়া এ পাল্টা বিমান হামলায় তুর্কিদের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে বলে লিখিত এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর ইরাকের ‘জ্যাপ’ অঞ্চলে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) ১২টি বিভিন্ন অবস্থানকে লক্ষ্য করে বিমানবাহিনীর যুদ্ধ বিমান আঘাত হানে। তবে, হতাহতের বিষয়ে কোন কিছু বলা হয়নি।

বোমাবর্ষণের পর কুর্দি জঙ্গি গ্রুপ এর দায় স্বীকার করলে এই বিমান হামলা অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল।

এদিকে, তুর্কি স্বাস্থ্য মন্ত্রী রিসেপ আকদগ জানিয়েছেন, শনিবারের ওই হামলায় এ পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জন পুলিশ সদস্য রয়েছে। এছাড়াও, আহত হয়েছে প্রায় ১৫৫ জন।

পিকেকে বিচ্ছিন্নতাকামী গ্রুপের ওয়েবসাইট ‘কুর্দি ফ্রিডম হক্স’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তুর্কি জনগণ তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল না।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদোলু জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর দেশব্যাপী অভিযানে কুর্দি জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কুর্দি পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (এইচডিপি) শতাধিক কর্মকর্তাকে আটক করেছে তুর্কি পুলিশ।

খবরে বলা হয়, পিকেকে’র সঙ্গে একাত্মতা কিংবা ওই দলের পক্ষে প্রচারণায় উৎসাহ যোগানোর সন্দেহে তুর্কি কর্তৃপক্ষ ১১৮ এইচডিপি কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়েছে।

সোমবার আনাদোলুর রিপোর্টে বলা হয়, অনলাইনে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের পক্ষে প্রচারণা’ চালানোর অভিযোগে সন্দেহভাজন ২৬ জনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

এদিকে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

রবিবার হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে এরদোগান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ সম্পর্কে কারো কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এই দেশের মালিক। আমরা কখনো এই দেশ ছেড়ে যাব না। এই ধরনের হামলা চালিয়ে তারা (সন্ত্রাসীরা) আমাদের ভীত করতে পারবে না।’

অন্য আরেকটি হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেন, ‘ইস্তাম্বুলের সন্ত্রাসী হামলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের চলমান সংগ্রামকে জোরদার করবে।’

তিনি বলেন, ‘পিকেকে, পিওয়াইডি, ফেতুল্লা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনসহ সকল সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে জাতি আমাদের ক্ষমতা দিয়েছে এবং আমরা জাতির আশা পূরণে পিছপা হবো না।’

ইলদিরিম বলেন, ‘এই হামলার পিছনে ‘সম্ভবত’ পিকেকে সন্ত্রাসী সংগঠন জড়িত কারণ তারা আমাদের ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বকে নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে।’

শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় বেসিক্টাস ভোডাফোন এরেনা স্টেডিয়ামের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তুরস্কের প্রধান দুটি ফুটবল দল বেসিক্টাস এবং বুরসাসপোরের মধ্যকার খেলার দুই ঘণ্টা পর হামলাটি চালানো হয়।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথমটি ছিল একটি গাড়িবোমা হামলা এবং দ্বিতীয়টি স্টেডিয়ামের কাছেই একটি পার্কে একজন আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়।

সূত্র: সিএনএন, আনাদোলু

You Might Also Like