রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নীরবতা রহস্যজনক: মির্জা ফখরুল

মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর সেদেশের সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন ও গণহত্যার ঘটনায় নিন্দা জানানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, “স্বৈরশাসনের কবলে দেশে দেশে জাতিগত সংঘাত, ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে উৎখাত, শোষণ-নিপীড়ন অব্যাহত গতিতে চলছে। পাশের দেশে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের নিপীড়নে বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত তৎপরতা দেখানো উচিত ছিল। উচ্ছেদ হওয়া রোহিঙ্গাদের তাৎক্ষনিকভাবে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে তাদের বাঁচানো যেতো। পরবর্তীতে কুটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যেতো। কিন্তু অকারণে অনেক বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখালেও রোহিঙ্গাদের বিষয়ে নীরবতা রহস্যজনক।”

তিনি নির্যাতিত ও উচ্ছেদ হওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মিয়ানমারের মুসলিম নিধনের বিষয়টিকে ভয়াবহ মানব বিপর্যয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর নৃশংসতায় দিশেহারা রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমরা। তাদের ওপর সে দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীদের নির্যাতন-নির্মমতা ইতোপূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মুসলিম রোহিঙ্গা সম্পদায়ের বাড়িতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। ধর্ষণ করা হচ্ছে নারী শিশুসহ মা-বোনদের। সব মিলিয়ে সেখানে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়-মুসলমানদের কোন মানবাধিকার থাকতে পারে না। গত কয়েক দিনে সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, “মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে দেশের হাজার হাজার মুসলিম জনগোষ্ঠী বাঁচার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ এলাকায় আশ্রয়ের জন্য ছুটছেন। নির্যাতনের ভয়াবহতা এতই ব্যাপক যে, রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী ঝোপে, ঝাড়ে, জঙ্গলে, সমুদ্রে আশ্রয়ের জন্য ছুটে বেড়াতে গিয়ে অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছে। এ এক ভয়াবহ মানব বিপর্যয়ের চিত্র।“

এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

একই দিন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে রাজধানীতে এক মানববন্ধন করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধের দাবি জানানো হয়।

এছাড়া, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সে দেশের সেনাবাহিনী নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

You Might Also Like