আলেপ্পোর ‘সব হাসপাতাল’ ধ্বংস হয়েছে

সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত অংশের সব হাসপাতাল বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিদ্রোহী নেতারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের চিকিৎসা অবকাঠামো নেই, যেখানে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। সরকারি বাহিনী বোমা বর্ষণে সব গুঁড়িয়ে গেছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হোয়াইট হেলমেটস আলজাজিরাকে জানিয়েছে, বিমান হামলা, ব্যারেল বোমা হামলা ও গোলাবারুদের আঘাতে শনিবার বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত আলেপ্পোয় ৫৬ জন নিহত হয়েছে।

সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলে কর্তব্যরত সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, গুঁড়িয়ে যাওয়া ভবনের মধ্য থেকে লাশ উদ্ধার করছে তারা। এর মধ্যে শিশুদের লাশও রয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, কমপক্ষে ২৭ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু।

আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলের কোনো হাসপাতাল চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, লোকজনকে ত্যাগ করতে তাদের (স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) বিশেষভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা দুটি হাসপাতালে বিমান হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন চিকিৎসা নিতে যাওয়ার মতো কোনো স্থান অবশিষ্ট নেই।

তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের তুরস্ক অংশের গাজিয়ানতেপ থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক ওসামা বিন জাভাইদ জানিয়েছেন, মানুষ আশাহত। আলেপ্পোয় মেডিক্যাল সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই তাদের। তা ছাড়া যেসব গুদামঘর হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেগুলোও হামলার শিকার হয়েছে।

হোয়াইট হেলমেটের স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, তাদের সব যন্ত্রপাতি হামলা ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে মেডিক্যাল সুবিধা দেওয়ার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই।

সিরিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন শহর আলেপ্পো। বিশাল ও ঐতিহ্যবাহী এ শহরের পূর্বাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠী। আর পশ্চিমাঞ্চলে রয়েছে বাশার আল আসাদের অনুগত সেনাবাহিনীর দখল। সম্প্রতি বিদ্রোহীদের অঞ্চলে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি বাহিনী।

২০১১ সালে শুরু হয়ে সিরিয়া গৃহযুদ্ধ আজও চলছে। প্রতিনিয়ত মানুষ মরছে, ধ্বংস হচ্ছে সভ্যতা। এরই মধ্যে প্রায় ৪ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে সিরিয়ায়।

You Might Also Like