জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরোক্ষ ভোটের বিধান, বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া

পরোক্ষ ভোটে নির্বাচনের বিধান রেখে জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ (রোববার) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ এ ঘোষণা দেন।

ঘোষিত তফসিল আনুযায়ী, ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ ১ ডিসেম্বর। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হবে ৩ ও ৪ ডিসেম্বর। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

বর্তমান আইন অনুযায়ী- একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের পাঁচজন নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠন করা হবে। চেয়ারম্যানসহ এই ২০ জন সদস্যকে নির্বাচন করবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

১৯৮৮ সালে এইচ এম এরশাদের সরকার জেলা পরিষদ আইন করেছিলেন, সেখানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেয়ার বিধান ছিল, পরে ওই আইন অকার্যকর হয়ে পড়ে। ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় একবারই সরাসরি নির্বাচন হয়। আর কোনো জেলা পরিষদে কখনো ভোট হয়নি।

২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা সরকার জেলা পরিষদে দলীয় লোকদের সরাসরি প্রশাসক নিয়োগ করে। অনির্বাচিত ওই প্রশাসকদের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে আগামী ২৮ ডিসেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো ৬১ জেলায় চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচন হচ্ছে। তবে সেখানে দলীয় মনোনয়নের সুযোগ রাখা হয়নি। আর ভোটারদেরও সরাসরি ভোট দেবার সুযোগ রাখা হয়নি।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বেসরকারী সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন-এর সভাপতি জনাব এম হাফিজুদ্দিন খান রেডিও তেহরানকে বলেন, এটা একটা লোকদেখানো বিষয়। এখানে ক্ষমততাসীন দলের লোকেরাই জয়ী হবে। কারণ, যারা ভোট দেবে তারা প্রায় সকলেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী।

তিনি মনে করেন, এতে গণতন্ত্রের কোনো কিছু নেই। বরং সেই ব্রিটিশ আমলেরও পেছনে চলে যেতে হবে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারীদের মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কি গ্রুপের পরিচালক আবদুল আলীম অবশ্য মনে করেন, বাংলাদেশে এবারই প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে এটা একটা ইতিবাচক দিক। তাছাড়া, পরোক্ষ ভোটের বিষয়টি কোনো নতুন ধারনা নয়।

তিনি অবশ্য এ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য ও ভোট কেনা-বেচার একটা খেলা আশংকা করছেন। যেখানে একটা ভোটের মূল্য কয়েক লাখ টাকাও হতে পারে।

তিন দশক আগে প্রথম জেলা পরিষদ আইন প্রবর্তনকারি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ আজ এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, তার দল আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবে না। কারণ, এই নির্বাচন অর্থহীন।

রোববার রাজধানীর গুলশানে একটি কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় পার্টির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে না গেলেও ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল- বিএনপি ইতোমধ্যেই জিলা পরিষদে পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলেছে। তারা বলছে, সরাসরি ভোটে না হয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন সংবিধান পরিপন্থি।

এই ভোট ‘দেশের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১৭ নভেম্বর সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা জেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা এই নির্বাচনে অংশ নেব না।”

You Might Also Like