‘গ্রেপ্তারের ভয়ে আহত অনেক সাঁওতাল চিকিৎসা নেননি’

গাইবান্ধায় সাঁওতালদের ওপর হামলার পর আহত অনেকেই গ্রেপ্তারের ভয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেননি। অনেকে প্রাণ ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন সাঁওতালরা।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সচেতন নাগরিক নামের একটি সংগঠন এ তথ্য জানায়। গাইবান্ধায় হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে এসে এ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শক দলে ছিলেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ দেবনাথ ভট্টাচার্য, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশি কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুর্শিদ, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জাতীয় আদিবাসী ফোরামের পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেনসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক।

সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, ‘আদিবাসীরা আমাদের বলেছেন, সন্ত্রাসীদের আক্রমণে ও পুলিশের গুলিতে ২০ জনেরও অধিক আদিবাসী নারী পুরুষ আহত হয়েছেন। কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকেই চিকিৎসা নেননি। অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাণ ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন কেউ কেই। কারণ, হামলার পর থানায় যে মামলা হয়েছে তাতে পুলিশের গুলিতে নিহত সাঁওতাল শ্যামল হেমব্রমকে প্রধান আসামি করে ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সাথে অজ্ঞাত পাঁচ শতাধিক সাঁওতাল ও বাঙ্গালি কৃষকদেরও আসামি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিদর্শনকালে দেখা গেছে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা আদিবাসীদের ওপর গুলি করে ক্ষান্ত হয়নি। তারা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। হামলাকারীরা আদিবাসীদের হাস, মুরগী, গরু, ছাগলসহ ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।’

আবুল বারাকাত বলেন, ‘সাঁওতালরা অভিযোগ করছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন শাকিল আহমদ বুলবুলের নির্দেশেই এই হামলা হয়েছে। হামলার পর বাড়িঘর হারিয়ে তারা গির্জা ও খোলা আকাশের নিচে রাত-দিন পার করছেন।’

গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সাঁওতালদের ওপর হামলাকে শুধু সাম্প্রদায়িক হামলা বললে ভুল হবে। এটি একাত্তরের ভয়াবহ হামলাকেও হার মানায়।

সংবাদ সম্মেলনে আদিবাসী হত্যার বিচারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া, আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারকে নেওয়া, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করাসহ সাত দফা দাবি উত্থাপন করে সংগঠনটি।

প্রসঙ্গত, গত ৬ ও ৭ নভেম্বর গাইবান্ধা জেলার সাহেবগঞ্জ ও বাগদাফর্ম এলাকায় সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। পরে সেখানে পুলিশও গুলি চালায়। এ সময় আদিবাসীদের বাড়িঘরে লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে শ্যামল হেমব্রম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু নামের তিন আদিবাসী সাঁওতাল নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

You Might Also Like