মাশরাফি মানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স না

প্রথম দুই ম্যাচে হারার পর থেকেই দর্শকদের নেতিবাচক মন্তব্য শুরু। তৃতীয় ম্যাচের পর তা যেনো আরো বড় আকার ধারণ করল। দলের টানা হার নিয়ে যখন সমর্থকরা সামাজিকমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তীর্যক মন্তব্য করছেন, ঠিক তখনই গণমাধ্যমে খবর এলো অধিনায়কের সঙ্গে দলীয় ম্যানেজমেন্টের বনিবনা না হওয়ায় হোটেল ছেড়ে বাসায় চলে গেছেন অধিনায়ক।

বলছিলাম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও তার অধিনায়কের কথা। চতুর্থ ম্যাচের আগে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা হোটেল ছেড়ে বাসায় চলে যান। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দলের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি রাগ করে বাসায় চলে যান। পরে অবশ্য রাগ ভেঙে তিনি হোটেলে ফিরেছেন। তারপর আরো দুই ম্যাচ খেলেছেন কুমিল্লা। দুটোতেই হার। এই দুই হার নিয়ে গেল বারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার পঞ্চম হার।

আমি ব্যক্তিগতভাবে বিপিএল নিয়ে খুব বেশি একটা মাতামাতি করি না। সামনে পড়লে খেলা দেখি। কিন্তু কোনো ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করি না। এমনকি বিশ্বের অন্যান্য প্রিমিয়ার লিগগুলোর ক্ষেত্রেও একই মনোভাব আমার। কিন্তু কুমিল্লার হারের পর মাশরাফিকে নিয়ে অনেকে দেখলাম তীর্যক মন্তব্য করছেন। বিশেষ করে কুমিল্লার সমর্থকরা। হ্যাঁ আমি জানি বিপিএল শেষ হলে হয় তো কুমিল্লার সমর্থকরা আবার মাশরাফির ফ্যান হয়ে যাবেন। কিন্তু কথা হলো আমাদের জাতীয় দলের বর্তমান অধিনায়ক, যিনি ক্রিকেটের জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু উজার করে দিয়েছেন, তাকে কি করে তারা প্রশ্নবিদ্ধ করেন?

কুমিল্লার পাঁচটি ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখুন, মাশরাফি পারফরম্যান্স দিয়েই দলে খেলছেন। আর অধিনায়ক মাশরাফির কথা বলতে চাই না। কারণ অধিনায়ক মাশরাফির যে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই তা ম্যানেজমেন্ট-অধিনায়ক বিতর্কই বলে দেয়। বরং আমার কাছে মনে হয়েছে যদি জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফিকে মূল্যায়ন করতে না পারেন তবে কেন তাকে অধিনায়ক হিসেবে নিয়েছেন? প্রশ্ন টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি। এই মাশরাফিই কিন্তু গতবার কুমিল্লাকে জিতিয়ে ছিলেন।

যদি হঠকারী না হন এই কথা নিশ্চয় বিশ্বাস করবেন যে, গতবারই কুমিল্লার জয় ছিল আশ্চর্যজনক ব্যাপার। কে খেলেছেন দলে সে বার? আজকে যারা কুমিল্লার হারে মাশরাফিকে নিয়ে কথা বলছেন তাদেরকে বলব প্লিজ গতবারের দলটি দেখুন। তারপর কথা বলুন। ঝড়ে বক মরছিল গতবার। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দিয়েছে সব খেলোয়াড়। মাশরাফির অধিনায়কত্ব তো ছিলই, তাই ওই মানের খেলোয়াড় না থাকার পরও কুমিল্লা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল গতবার।

এবার আসি বর্তমান কুমিল্লার দলে। বিদেশি কোন কোন খেলোয়াড় আছেন দলে? দেশের কয়জন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান আছেন দলে। আর যারাই বা আছেন তাদের পারমরম্যান্স দেখুন। তাদের সঙ্গে মাশরাফির পারফরম্যান্সও দেখুন। শুধু মাশরাফি একা কিছু করতে পারবে না। কারণ ক্রিকেট তো একজনের খেলা না। কিংবা শুধু অধিনায়ক খেলা জেতাতে পারবে না। পুরো দলের সবগুলো বিভাগ যখন সমানভাবে পারফরর্ম করবে তবেই না দল জিতবে। সেখানে একা ভাল করে জেতার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কুমিল্লা দলের সেটা হচ্ছে না। সমর্থকদেরও সেটা বোঝা উচিত। যখন খেলোয়াড় নির্বাচন হয়েছে তখনই এই দিকটা খেয়াল রাখার দরকার ছিল। আমি বলব গতবার জিতেছিল বলে এইবারও সে মানেরই দল নির্বাচন হয়েছে। প্রতি ডুবেই কি শালুক পাওয়া যায়রে পাগলা…

বিপিএলের মাশরাফি আর জাতীয় দলের মাশরাফি একই। একই ডেডিক্যাশন নিয়ে মাশরাফি খেলেন। দলের সবার ব্যর্থতার জন্য দল হারছে। কিন্তু যারা বিপিএলের মাশরাফির মাধ্যমে জাতীয় দলের মাশরাফিকে ভুলে গিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন তাদেরকে বলবো, শুধু ইমোশনাল হবেন প্লিজ, একটু বাস্তবাদী হন। পারলে কুমিল্লার টিম ম্যানেজমেন্টকে জিজ্ঞেস করুন কেন দলকে সাজানোর সময় ভাবেনি মাশরাফি একা দলকে জেতাতে পারবে না। তারা তো মাশরাফিকে কুমিল্লার সাইনবোর্ড বানাতে চেয়েছে। আর সব এমনে এমনে হয়ে যাবে ভেবেছেন তারা। সাইনবোর্ডে কি খেলা যেতা যায়? গতবার হয়েছে এবার হচ্ছে না।

প্লিজ মাশরাফিকে নিয়ে কিছু বলার আগে একবার ভাবুন। মাশরাফি মানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স না। মাশরাফি মানে গোটা বাংলাদেশের ক্রিকেট আবেগ।

You Might Also Like