নাসিকে আ.লীগের মনোনয়ন পেলেন আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পরবর্তী সময়ে দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা।

গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ার জন্য আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে দলীয় প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে প্রেরণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মেয়র পদে দলের মহানগর শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু কেন্দ্র থেকে তিনজন প্রার্থীর নাম চাওয়ায় বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশীদ এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমানের নামও প্রস্তাব করা হয়। এ তালিকায় বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আইভীর নাম ছিল না।

এরপর বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমি তা মেনে নেব। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি নির্বাচন করব না। এটা আমি ডিসাইডেড। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিগত সময়ে আমার কর্মকাণ্ডে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে। কারণ, আমি ১৩ বছর যাবৎ এখানে কাজ করছি। অত্যন্ত প্রতিকূলতার মাঝে আমি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় কাজ করেছি।

তিনি আরও বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগ তড়িঘড়ি করে একটি মিটিং ডেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একজন প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে কাজটি হয়েছে। শহরের মধ্যে বহু আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ দুটি ভাগে বিভক্ত। সে ক্ষেত্রে তারা কারও নাম কেন্দ্রে পাঠাতেই পারে। কেন আমার নাম পাঠায়নি, তারাই ভালো বলতে পারবে। এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই।

আইভী বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হন। এরপর ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করার পর প্রথম নাসিক নির্বাচনে তিনি শামীম ওসমানকে (নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ) বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছিল শামীম ওসমানকে। আইভী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

সম্প্রতি ১৬ বছর পর ৯ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি পদে নাম ঘোষণা করা হয়। এই তিনজনের কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান আইভী। এর আগে তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

অন্যদিকে গত বুধবার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেল পরিচিতি সভায় সাংসদ শামীম ওসমান সাংবাদিকদের সামনে বলেন, বিশ্বাস করেন, আমি রেডি ছিলাম আইভীর নাম প্রস্তাব করা হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের একজন নেতা–কর্মীও আইভীর নাম প্রস্তাব করেননি।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নাসিকে আগামী ২২ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ২৬ ও ২৭ নভেম্বর বাছাই আর ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে।

You Might Also Like