রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের বর্বরোচিত হামলার মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলমানদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ সীমান্তে অতিরিক্ত টহল জোরদার করেছে বিজিবি।

গতকাল (বুধবার) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে অতিরিক্ত তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য পাঠানো হয়েছে বলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

এদিকে, বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ারুল আজিম জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সহায়তা চেয়ে মঙ্গল ও বুধবার টেকনাফ সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে বিজিবির সচেতনতামূলক সভা হয়। এতে স্থানীয় লোকজন ও জেলেদের নাফ নদীর শূন্যরেখা অতিক্রম না করে দেশের অভ্যন্তরে মাছ ধরা এবং চলাচল করতে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া, জেলেদের রাতের বেলায় মাছ না ধরতে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ চেষ্টা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বিজিবিকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর সেনা অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন মিয়ানমারের মুসলিম নাগরিকদের অনেকে।

মঙ্গলবার সকালে টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় নৌকায় করে নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমারের ৮০ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা চালালে তাদের ফেরত পাঠানো হয় বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা আবুজার জাহিদ।

গত ৯ অক্টোবর অজ্ঞাত পরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের হাতে মিয়ানমারের ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর সেখানে নিরীহ মুসলমানদের ওপর ফের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হামলা শুরু হয়েছে। সেখানে ত্রাণকর্মী ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না এবং গ্রামগুলোতে চিরুনি তল্লাশি অভিযান চলছে।

মঙ্গলবার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলেছে, গত সাত দিনের সহিংসতায় ৬৯ জন রোহিঙ্গা এবং মিয়ানমার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৭ সদস্য নিহত হয়েছে।

মিয়ানমারের মুসলমানরা সব সময়ই দেশটির সেনাবাহিনী ও সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর নির্যাতনের শিকার হয়ে এসেছেন। এদের মধ্যে রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন। মিয়ানমার সরকার দেশটির প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।#

পার্সটেুডে

You Might Also Like