মাহমুদউল্লায় জিতল খুলনা

বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাজশাহীর বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শেষ ওভারের বোলিং নৈপুণ্যে জয় পায় খুলনা টাইটান্স। মিরপুরে আজও চমক দেখান তিনি।

আজ চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে শেষ ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে দলকে জয় উপহার দেন দলীয় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

শনিবার দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে খুলনাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৭ রান করেছে খুলনা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আফগান তারকা মোহাম্মদ নবীর ঝড়ো ইনিংসে জয়ের খুব কাছে পৌছে যায় চিটাগং। কিন্তু শেষ মূহর্তে খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লার নাটকীয়তায় ৪ রানে জয় পেয়েছে খুলনা টাইটান্স।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৬ রান দরকার ছিল চিটাগংয়ের। কিন্তু হাতে চারটি উইকেট নিয়েও সেই রান করতে পারেনি তারা। খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লার বোলিং নৈপুণ্যের কাছে হেরে যায় তামিমের চিটাগং। ওভারের শেষ বলে ৫ রান দরকার ছিল চিটাগংয়ের। স্ট্রাইকিংয়ে ছিলেন মোহাম্মদ নবী। কিন্তু মাহমুদউল্লার করা ওভারের শেষ বলে তাসকিনের হাতে তালিবন্দি হয়ে যান আফগান এ তারকা। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রানে থামে চিটাগংয়ের ইনিংস।

চিটাগংয়ের হয়ে তামিম (৩), স্মিথ (৩), বিজয় (১৪), মালিক (৪), জাকির হাসান (৮), জহুরুল ইসলাম (২৫) রানে আউট হয়েছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন নবী। ২৩ বল মোকাবেলা করে ২ চার ও সমান ছক্কায় এই ইনিংসটি সাজান তিনি।

জয়ের জন্য ১২৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা খুব ভালো হয়নি চিটাগংয়ের। দলীয় ২০ রানের মধ্যেই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ডোয়াইন স্মিথকে হারায় তারা। ওয়ানডাউনে নামা এনামুল হক বিজয় কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও বেশিক্ষন পিচে থাকতে পারেননি।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল খুলনা। দুই ওপেনার রিকি উইসেলস ও হাসানুজ্জামান মিলে ৩ ওভারে তুলেছিলেন ৩৪ রান। কিন্তু এরপরই দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় খুলনা।

চতুর্থ ওভারের প্রথম আর শেষ বলে হাসানুজামান (৮) ও শুভাগতকে (৩) ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ নবী। ষষ্ঠ ওভারে উইসেলসকে বোল্ড করেন আব্দুর রাজ্জাক। ১৭ বলে ৪টি চারে ২৮ রান করেন উইসেলস।

খানিক বাদে তাসকিন আহমেদের বলে তামিমের দারুণ এক ক্যাচে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহও (৬)। বিনা উইকেটে ৩৪ থেকে খুলনার স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৫২।

পঞ্চম উইকেটে অলোক কাপালি ও নিকোলাস পুরাণ মিলে দলকে ৭৭ পর্যন্ত টেনে নিয়েছিলেন। তবে কাপালিকে ফিরিয়ে ২৫ রানের এ জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ নবী। ২৩ রান করে তাসকিনের ক্যাচে পরিণত হন কাপালি।

এরপর ষষ্ঠ উইকেটে নিকোলাস পুরাণ ও আরিফুল হকের ৪৮ রানের জুটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় খুলনা। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে রানআউট হওয়া পুরাণ ৩০ বলে ১ ছক্কায় ২৯ রান করেন। ১৬ বলে ২ ছক্কা ও এক চারে ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন আরিফুল।

৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে চিটাগংয়ের সেরা বোলার মোহাম্মদ নবী। এ ছাড়া তাসকিন ২টি ও রাজ্জাক নিয়েছেন একটি উইকেট।

খুলনার একাদশে ফিরেছেন মোশাররফ হোসেন রুবেল। অন্যদিকে চিটাগংয়ের একাদশ অপরিবর্তিত রয়েছে।

দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং পরের ম্যাচে হেরেছে। আজ যে দল জয় পাবে তারা খানিকটা এগিয়ে যাবে।

You Might Also Like