লাশগুলো ঘুমাতে আসবে আমাদের কাছে

মিরপুরে বিহারিদের পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যার খবরে থ হয়ে বসে আছি। দশ জন মরেছে। তার মধ্যে শিশু আছে, নারীও আছে।

জানি, আসল ঘটনা এই মুহূর্তে জানা যাবে না। বলা হচ্ছে, বিহারি পল্লী আর তার পাশের বস্তির মধ্যে সংঘর্ষ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুতের ট্রান্সমিটার থেকে বস্তিবাসীদের বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কারন হিসাবে বলা হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের বিষয় নিয়ে সঙ্ঘাত হতেই পারে। কিন্তু তালাবন্ধ করে পুড়িয়ে মারা এবং পুলিশের গুলি চালানোর কারন এই অজুহাত দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

বুঝতে পারি বিহারিদের জন্য বরাদ্দ জায়গা দখলের উদ্দেশ্য এখানে কাজ করতে পারে। সফট টারগেট। কোন একটা ছুতায় গণ্ডগোল লাগিয়ে দুর্বলকে উৎখাত করা।

কিন্তু যে দুর্বল সে যে সবল সেটা প্রমাণ করবার জন্য এখন গণমাধ্যম সোচ্চার হয়ে উঠেছে। একটি প্রথম সারির বাংলা পত্রিকা লিখেছে, বিহারিরা এতো পটকা পেল কোত্থেকে? এটাই তাদের প্রধান খবর। এই পটকা শবেবরাতের রাতে নাকি ফোটানো হয়েছিল, ওতে কান ফেটে যাবার জোগাড়।

তো বিহারিরা কেন কান ফাটানো পটকা ফোটালো তাই তাদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়ে মেরে ফেলতে হবে! তারপর পুলিশ ও বাঙালি মিলে হামলা চালাতে হবে তাদের ওপর !

কাল শুনবো এই পটকা পাকিস্তান থেকে এসেছে।

পরশু, এগুলো আসলে পটকা ছিল না, ছিল বোমা। এরপর নানান গল্প। কারন প্রমাণ করতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করবার ষড়যন্ত্র চলছে।

যে ভাবেই হোক ভুলিয়ে দিতে হবে যে দশটি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। অনেককে পুড়িয়ে। এদের মধ্যে নারী ও শিশু আছে।

লাশগুলো ঘুমাতে আসবে রাতে আমাদের কাছে। কারন তারা কোথায় কার কাছে গিয়ে বিচার চাইবে সে ঠিকানা কেউ দিতে পারছে না। কোথায় যাবে তারা? আমাদের পাশের বালিশেই ঘুমাবে।

এই হত্যাযজ্ঞের পরে আমাদের বিশেষ বিকার নাই, তাই পাশের বালিশে পুড়ে যাওয়া মানুষের লাশ শুয়ে আছে আমরা টেরও পাবো না।

জ্বি। আমরা বাঙালি, আমরা মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক। বিহারিদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিচ্ছি মাত্র।

তাছাড়া তাদের জন্য বরাদ্দ অতিশয় মূল্যবান জায়গাটা এখন আমাদের দরকার। খুবই দরকার।

You Might Also Like