ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ইরাক : ষড়যন্ত্র চলছে ভেতরে ও বাইরে

আল-কায়েদা সমর্থিত ইসলামিক স্টেট অভ লিভান্ট বা আইএসআইএল’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা যখন ইরাকে ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তখন ইরাকের কোনো কোনো কর্মকর্তা তাদের মোকাবেলা না করে বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়েছে বলে জানা গেছে।

 আইএসআইএল’র সন্ত্রাসীরা গত মঙ্গলবার ইরাকের নেইনাভা প্রদেশের মুসেল শহর পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে। এ ছাড়া, তারা কিরকুক এবং সালাউদ্দিন প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর তিকরিতের কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে। দখল করার পর সন্ত্রাসীরা সেখানে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা বহু লোকের মাথা কেটে নেয়া ছাড়াও গাড়ি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং জনগণকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

 বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আইএসআইএল’র সন্ত্রাসীরা মুসেলে অবস্থিত তুর্কি কন্সুলেট ভবন দখল করে নিয়েছে এবং সেখানকার প্রধানসহ ৪৮ জন তুর্কি নাগরিককে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সালাউদ্দিন প্রদেশের কেন্দ্রীয় শহর তিকরিতও সন্ত্রাসীদের পুরো নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এদিকে, ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় কারবালা শহরে দুটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে চার জন নিহত এবং নয় জন আহত হয়েছে।

 অন্য এক খবরে জানা গেছে, আইএসআইএল’র সন্ত্রাসীরা নেইনাভা প্রদেশের সরকারী ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনের কাছে অবস্থান নিয়েছে এবং এখন তারা ওই প্রদেশের গভর্নরের ভবনে অবস্থান করছে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, কিরকুকে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ সদস্যকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। তারা মাইকে করে সরকারি কর্মচারীদেরকে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছে।

 এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক দফতর থেকে বলা হয়েছে, আইএসআইএল’র সন্ত্রাসীরা মুসেল শহর দখল করে নেয়ার পর পাঁচ লাখের বেশি মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছে। আইএসআইএল ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে পাঠানো বার্তায় জানিয়েছে তারা রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে হামলার পরিকল্পনা নিচ্ছে।

 এদিকে ইরাকের সেনাবাহিনী মুসেল শহরে আইএসআইএল’র অবস্থানের ওপর বোমা বর্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং এ পর্যন্ত এসব হামলায় বহু সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ইরাক সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির কুর্দিস্তান এলাকার আত্মঘাতী বাহিনী মুসেল শহরের ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অ্যালেক্সিস সামরিক ঘাঁটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে। এটি ছিল ওই এলাকায় ইরাক সেনাবাহিনীর সর্ববৃহৎ সামরিক ঘাঁটি।

 তুরস্কের কুর্দি লেবার পার্টি পিকেকে’র পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কর্মকর্তা দামহাত আকিদ বলেছেন, তার দল ও তাদের বাহিনী যেখানেই থাকুক না কেন তারা কুর্দিদের রক্ষা করবে। এদিকে ইরাকের বিভিন্ন বার্তা সংস্থা এমন কিছু নথিপত্র প্রকাশ করেছে যাতে দেখা যায়, নেইনাভা প্রদেশের গভর্নর আসিলুল নাজিফি ওই প্রদেশের সব অফিস-আদালতে সরকারি দলিলপত্র পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তথাকথিত মুজাহেদিন নামে পরিচিত আইএসআইএল’র সন্ত্রাসীদেরকে প্রতিরোধ না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 এদিকে ইরাকের বর্তমান কোয়ালিশন সরকারের একজন প্রতিনিধি মাহমুদুল সাহিউদ বলেছেন, ইরাক পার্লামেন্টের প্রধান উসামা আল নাজিফি  এবং তার ভাই নেইনাভা প্রদেশের গভর্নর আসিলুল নাজিফি অপরাধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন এবং তারাই মুসেলকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএলের কাছে হস্তান্তর করেছে।

You Might Also Like