কাশ্মির ও রামপাল ইস্যুতে বিএনপির বক্তব্য, বিশ্লেষকের প্রতিক্রিয়া

বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে মন্তব্য করেছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল, ঠিক একইভাবে গণতন্ত্র হত্যার জন্য সহযোগিতা করেছে।

‘জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ নামক একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে কাশ্মীর ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানাতে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কাশ্মিরের মুক্তির প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকার ভারতের পক্ষ নিলেও এদেশের জনগণ নির্যাতিত কাশ্মিরিদের পক্ষে নেবে। এ কথা ভারতকেও মনেও রাখতে হবে।

এর আগে পরিবেশবাদীদের সুন্দরবন বাচাঁও আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বিএনপি প্রধান বেগম জিয়া রামপালে ভারতীয় অর্থায়নে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধী করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপি’র এসব বক্তব্যকে কোনো কোনো মহল নতুন করে ভারত-বিরোধিতা হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার ফায়জুল হাকিম রেডিও তেহরানকে বলেন, কাশ্মিরি জনগণের ন্যায্য অধিকারের ব্যাপারে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত আজও কার্যকর করা হয় নি। বাংলাদেশের গঠনতন্ত্রও যে কোন দেশের মুক্তিকামী জনগণের আন্দোলনকে সমর্থন করে। তাই কাশ্মিরি জনগণের পক্ষে কথা বললে সেটা ভারত বিরোধিতা হয় না।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব তথা জনগণের স্বার্থে কথা বললে তাকে ভারতের বিরোধিতা বলে চিহ্নিত করার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো দেশের স্বাধীনতা রক্ষা সেদেশের জনগণের সর্বোচ্চ অধিকার।

বাংলাদেশের পরিবেশবাদী ও সুশীল সমাজও মনে করেন, সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করার অর্থ কোনোভাবেই ভারতের বিরোধিতা নয়। বরং তেল-গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. আনু মুহাম্মদ যেমনটি বলেছেন, ভারত এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা করে বরং দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। #

পার্সটুডে

You Might Also Like