সাগরে ঘূর্ণিঝড় কায়ান্ট : ২ নম্বর সতর্কতা

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরো শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কায়ান্ট’।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এটি সামান্য উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এ জন্য সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেতের পরিবর্তে ২ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, ‘ঘূর্ণিঝড় কায়ান্ট বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে কি না, তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। এর বর্তমান অবস্থান উপকূল থেকে বেশ দূরে।’

উপকূলে আঘাত হানতে পারে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে চলার পথে বারবার গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এখনো আতঙ্কিত হওয়ার পর্যায়ে নেই এটি। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণে রয়েছি। পরবর্তী পরিস্থিতি অবশ্যই জানানো হবে।’

তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার দুটি মৌসুম রয়েছে। এর একটি হলো এপ্রিল-জুন, অন্যটি সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের শুরুর দিক। বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় মৌসুমটাই বিপজ্জনক।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড় কায়ান্ট সম্পর্কে সতর্কতা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, এটি আজ সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।

এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলেও বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কায়ান্টের কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরের সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পববর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

You Might Also Like