অরুণাচল প্রদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরে ক্ষুব্ধ চীন

ভারতের অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরে ক্ষুব্ধ হয়েছে প্রতিবেশী চীন। অরুণাচল প্রদেশ সফর শেষে গত ২১ অক্টোবর টুইটারে ছবি প্রকাশ করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড বর্মা। এরপরেই চীনের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে এল।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেছেন, ‘দু’টি দেশ আলোচনার মাধ্যমে প্রাদেশিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। সেখানে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতিতে সমগ্র প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যের বিষয়ে মাথা ঘামানো বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় সীমান্ত সমস্যা আরও জটিল হবে।’

চীনের ওই মুখপাত্রের মতে, ‘ অনেক কষ্ট করে নিয়ন্ত্রণ রেখায় শান্তি ফেরানো সম্ভব হয়েছে। আমেরিকার পদক্ষেপে তা বিঘ্নিত হতে পারে। আমরা আমেরিকাকে অনুরোধ করছি, ভারত এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মাথা ঘামানো বন্ধ করুন। নইলে আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। এজন্য দুই দেশের মানুষকেই ফল ভোগ করতে হবে।’

অরুণাচলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড বর্মা (বামে)
ভারত অবশ্য চীনের আপত্তি আমলে না নিয়ে বলেছে, মার্কিন দূতের সফরে অস্বাভাবিকতা কিছু নেই। অরুণাচল প্রদেশে সফরের পূর্ণ অধিকার রয়েছে তার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ জানিয়েছেন, ‘এর মধ্যে অস্বাভাবিকত্ব কিছু নেই। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি অংশ। সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরের অধিকার আছে।’

অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সম্প্রতি তাওয়াং সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড বর্মা। চীনের দাবি, মার্কিন দূত ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় গিয়েছিলেন। ওই সব এলাকাগুলো নিয়ে ভারত এবং চীনের মধ্যে মতভেদ আছে।

অরুণাচল প্রদেশের ৯০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে নিজেদের বলে দাবি করে চীন। তাদের দাবি, ওই এলাকা দক্ষিণ তিব্বতের অংশ। অন্যদিকে, ভারতের দাবি, চীন বেআইনিভাবে ভারতের ১৪ হাজার ৬০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা দখল করে রেখেছে। এ সব নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেই মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অরুণাচল প্রদেশ সফরকে কেন্দ্র করে চীনের আপত্তি প্রকাশ্যে এল। #

পার্সটুডে

You Might Also Like