টানটান উত্তেজনার মধ্যে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিল রুশ পরমাণু রণতরী

রাশিয়ার পরমাণু-শক্তিচালিত রণতরী এবং যুদ্ধবিমান বহর (শুক্রবার) ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছে। মস্কোর সঙ্গে পাশ্চাত্যের সামরিক জোট ন্যাটোর উত্তেজনা যখন তুঙ্গে তখন এ ঘটনা ঘটল। তীব্র উত্তেজনার মধ্যে রুশ নৌ বহরের ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়াকে ‘শক্তি প্রদর্শন’ বলে ধরে নেয়া হয়েছে।

অবশ্য এ সময় ব্রিটিশ নৌবহরকে পুরোপুরি সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। ব্রিটিশ নৌবহরের অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ডানকান এবং ফ্রিগেড এইচএমএস রিচমন্ডের কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পার হয় ফ্ল্যাগশিপ বিমানবাহী রণতরী অ্যাডমিরাল কুজনেৎসভসহ রুশ নৌবহরের যুদ্ধজাহাজের বহর। বহরে ছয়টি যুদ্ধজাহাজ, একটি ডুবোজাহাজ, তিনটি সহায়তাকারী জাহাজ ছিল। সাগরে অচল হয়ে পড়া জাহাজ টানার কাজে ব্যবহৃত বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ বা টাগ, নিকোলাই চিতার’ও রুশ বহরের সঙ্গে ছিল।

ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর একটি লিনেক্স হেলিকপ্টার রুশ নৌবহরকে ঘিরে আকাশে চক্কর দিয়েছে। রুশ নৌবহরের ওপর নজর রাখার কাজে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডের নৌবহর জড়িত ছিল। এ ছাড়া, ইংলিশ চ্যানেলের দক্ষিণে ডাচ একটি ডুবোজাহাজও তৎপর ছিল।

ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের সময় রুশ রণতরী এবং বিমানবহর পুরোপুরি অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত ছিল। বহরের রণপ্রস্তুতি ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন রুশ সিনেটের প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির প্রথম ডেপুটি পিয়োতর ক্লিনতসেভিস। তিনি বলেন, রণতরীগুলো সশস্ত্র ছিল এবং বহরটি ছড়ি হাতে নিছক হাঁটতে বের হয় নি।

এ দিকে, ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সময় কুজনেৎসভে একে-৪৭ এবং ভারি মেশিনগান নিয়ে রুশ সেনাদের পাহারা দিতে দেখা দেখা গেছে। রুশ নৌবহরের রণতরীগুলো একটি আরেকটির পেছনে সারিবদ্ধভাবে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছে। চ্যানেল পার হওয়ার সময় রুশ বিমানবাহী রণতরীতে কোনো যুদ্ধবিমান ওঠানামা করতে দেয়া হয় নি।

রুশ নৌবহর দেখতে ডোভারের তীরে সকাল থেকেই অনেক কৌতূহলী দর্শক জড়ো হয়েছিলেন। এছাড়া, পেশাদার এবং সৌখিন আলোকচিত্রীদেরকে ছবি তুলতে দেখা গেছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালোন স্বীকার করেছেন, ব্রিটিশ এবং ন্যাটো মিত্রদের সামরিক সক্ষমতা খতিয়ে দেখার জন্য ২২ মাইল দীর্ঘ চ্যানেল অতিক্রম করেছে রুশ নৌবহর।

You Might Also Like