অজ্ঞতা প্রকাশের নিদারুণ ব্যাকুলতা

ইচ্ছে ছিল ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য নিয়ে লিখব। কিছু দিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম, বিশেষত ইউটিউবে ভারতের কয়েকজন নামকরা রাজনীতিবিদের বক্তব্য-বিবৃতি ও কথাবার্তা শুনছিলাম। তাদের শিক্ষাদীক্ষা, দেশপ্রেম, সাহস-শক্তি ও রাজনীতির মান দেখে যারপরনাই বিমোহিত হয়ে পড়েছি। ভারতীয় পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন পোর্টালগুলোর পেশাদারিত্ব, সাহস এবং স্বাধীনতার ধরন ও প্রকৃতি আমাকে দারুণভাবে চমকিত করেছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশটির তুলনায় আমাদের রাজনীতিবিদেরা আসলে কতটা পিছিয়ে রয়েছেন, তা হৃদয়ঙ্গম করার জন্যই আমি ইউটিউবে গিয়ে সেসব বক্তৃতা-বিবৃতি দেখছিলাম। রাজনীতি ও গণমাধ্যমের সাথে সম্পৃক্ত থাকার দরুন আমার মধ্যে একটি স্বাভাবিক জানার আগ্রহ সব সময় প্রবলভাবে নড়াচড়া করে। আমি জানতে চাই, কেন আমি রাজনীতি ও লেখালেখি করছি- এগুলো কিভাবে করা উচিত এবং এসব ক্ষেত্রে সফল ও কিংবদন্তি লোকজন কিভাবে ওসব করছেন!

ইউটিউবে নানান বিষয় খুঁজতে গিয়ে আমি ভারতের জীবন্ত কিংবদন্তি রাম জেঠমালানির কিছু বক্তব্য শুনে দারুণভাবে প্রভাবিত হয়ে পড়ি। ভদ্রলোকের বর্তমান বয়স ৯৪ বছর। তিনি ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য। ইতঃপূর্বে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আইনমন্ত্রী, উন্নয়নমন্ত্রী এবং বহুবার লোকসভার সদস্য ছিলেন। তিনি ৭৫ বছর ধরে আইন পেশার সাথে জড়িত এবং ইতঃপূর্বে বেশ কয়েকবার ভারতীয় বার কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন। তাকে বলা হয় ভারতের এ যাবৎকালের শ্রেষ্ঠ আইনজীবী এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ। দুরন্ত সাহস, স্পষ্টবাদিতা ও জ্ঞানের গভীরতার জন্য শুধু ভারতবর্ষ নয়- সারা দুনিয়ার আইনাঙ্গনে তিনি অতীব সম্মানিত একজন মানুষ। তিনি এখনো যুবকের মতো কর্মক্ষম এবং ভারতের রাজনীতি, ওকালতি ও আইনের শিক্ষক হিসেবে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন।

রাম জেঠমালানিকে বলা হয় ১০ কোটি টাকা মূল্যের উকিল। ভারতবর্ষের নামকরা সব চাঞ্চল্যকর মামলা তিনি লড়েছেন ও জিতেছেন। তার পেশাগত জীবনের ৯০ শতাংশ মামলা তিনি বিনা টাকায় পরিচালনা করেছেন। ভারতীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তার লড়াই-সংগ্রাম এবং জনমত সৃষ্টির অসাধারণ দক্ষতার কারণে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডনেরা তাকে যমের মতো ভয় পায় এবং শ্রদ্ধা করে। ভারতের কোনো আইনজীবী যা করতে সাহস পাননি- গত ৭৫ বছরে তিনি তা করে দেখিয়েছেন। তার কারণে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার এবং রাজিব গান্ধীর সরকার ব্যাপক জনপ্রিয়তা হারায়। অন্য দিকে, তার কারণেই বিজেপি সরকার গঠনে সক্ষম হয়। এ কথা সর্বজনস্বীকৃত যে, রাম জেঠমালানির কারণেই গুজরাটের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং চরমভাবে বিতর্কিত নরেন্দ্র মোদি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান মন্ত্রী হতে পেরেছেন।

বর্তমানে নরেন্দ্র মোদিকে তিনি দুই চোখে দেখতে পারেন না। ১০ মুখে তিনি বিজেপি সরকারের সমলোচনা করছেন এবং সংসদ ও সংসদের বাইরে মোদির বিরুদ্ধে বোম ফাটানো নানান মন্তব্য করে পুরো ভারতবর্ষে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। ভারতের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারত থেকে পাচার হয়ে যাওয়া ১৬ হাজার কোটি টাকা ফেরত আনার বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি রাম জেঠমালানির মধ্যে নির্বাচনপূর্ব সময়ে সমঝোতা হয়েছিল এবং সেই সমঝোতার শর্ত মোতাবেক তিনি নরেন্দ্র মোদিক প্রধানমন্ত্রী পদে বসানোর জন্য এবং বিজেপিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আনার জন্য তার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদি পূর্বেকার ওয়াদা বেমালুম চেপে চান। এ অবস্থায় রাম জেঠমালানি দুর্নীতির টাকা দেশে ফেরত আনার বিষয়ে রুল চেয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। কোর্ট রুল ইস্যু করেন এবং দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় রাম জেঠমালানি রাস্তায় নামেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রবল গণমত গড়ে তোলেন।

উপরি উক্ত বিষয় নিয়ে ভারতীয় রাজ্যসভায় এবং কয়েকটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রাম জেঠমালানির বক্তব্য শোনার পর আমি যারপরনাই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি। তিনি বলেন- ‘মরণযাত্রার জন্য বিধাতা যে বিমানবন্দর তৈরি করেছেন, আমি সেই বন্দরের বহির্গমন লাউঞ্জের একজন যাত্রী হিসেবে পরপারে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। সৌভাগ্যবশত আমার বিমানটি আসতে একটু দেরি করছে। বিধাতার নিকট আমার প্রার্থনা! তিনি যেন বিমানটি আরো একটু দেরিতে পাঠান, যেন জীবনসায়াহ্নে আমি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ অন্য রাস্কেলদের জেলে ঢুকিয়ে যেতে পারি।’

আইনবিজ্ঞান, অপরাধবিজ্ঞান, আইন পেশা, ভারতীয় সংবিধান এবং পৃথিবীর আইনব্যবস্থা সম্পর্কে রাম জেঠমালানির বিভিন্ন বক্তব্য শোনার পর আমি সিদ্ধান্ত নেই যে- আমিও অতি মানবতার সেবার আইন পেশায় যোগদান করব। আমি আইনের ছাত্র ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি আইনশাস্ত্রে এলএলবি অনার্স এবং এলএলএম ডিগ্রিধারী। আমার সহপাঠীদের অনেকেই বাংলাদেশের নামকরা প্রথিতযশা আইনজীবী রূপে ইতোমধ্যে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যারা নিম্ন আদালত এবং হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে যোগদান করেছেন, তারাও সুনাম ও দক্ষতার কারণে সংশ্লিষ্ট মহলের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা লাভ করেছেন। এ অবস্থায় আইন পেশার মহত্ত্ব, ইতিহাস ও ঐতিহ্য বর্ণনা করে একটি নিবন্ধ লিখি; যা উপসম্পাদকীয় হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উল্লিখিত নিবন্ধের শেষাংশে আমি একটি কৌতুক বর্ণনা করেছিলাম। কৌতুকটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উকিলদেরকে নিয়ে, সেই দেশে বেশ আলোচিত ও জনপ্রিয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনশাস্ত্রের শিক্ষক, বিচারক কিংবা উকিলেরা প্রায়ই সভা-সমাবেশে আত্মসমালোচনা করতে গিয়ে কৌতুকটি বলে থাকেন। ইউরোপসহ অন্যান্য পশ্চিমা দুনিয়া এবং ভারতের আইনাঙ্গনেও কৌতুকটি অসম্ভব জনপ্রিয়। আমি কৌতুকটি শুনি রাম জেঠমালানির মুখ থেকে, যিনি ভারতীয় বার কাউন্সিলের সমাবেশ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান এবং টেলিভিশন টকশোতে কৌতুকটি বহুবার উল্লেখ করেছেন। বিষয়টির আবেদন ও জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে আমিও তা আমার নিবন্ধে সংযুক্ত করি।

নিবন্ধটি প্রকাশের পর সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। আইনাঙ্গনের সবাই আমাকে ধন্যবাদ জানান। এরই মধ্যে গত ৫ অক্টোবর দুপুরে টেলিফোনের মাধ্যমে জানতে পারি, ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক, প্রকাশক এবং কলাম লিখক হিসেবে আমার বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। সারা বাংলাদেশের আইনজীবীদের মধ্যে আমার অনেক শুভার্থী, ভক্ত ও অনুরক্ত রয়েছেন। তারা অনেকেই ফোন দিচ্ছিলেন। তারা সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। আমি আসলে মামলা নিয়ে কিছুই ভাবছিলাম না। আমার অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য তিনটি নিবন্ধের বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। আমি বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নয়া দিগন্তে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত উপসম্পাদকীয় লিখি। অন্য দিকে দৈনিক আমাদের সময়ে প্রতি মাসের ৭ তারিখে লিখি। ফলে মাসের তিনটি সপ্তাহের প্রতিটিতে আমাকে দু’টি লেখা অবশ্যই বুধবারের মধ্যে শেষ করতে হয়। অন্য দিকে, চতুর্থ সপ্তাহে লিখতে হয় তিনটি নিবন্ধ।

চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ প্রতিদিন এবং আমাদের সময়ের জন্য লেখা নিবন্ধগুলো বুধবার দুপুরের মধ্যেই শেষ করেছিলাম। বাকি ছিল নয়া দিগন্তের লেখাটি, যা ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য নিয়ে লিখব বলে মনস্থির করে ফেলেছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে মামলার খবর এবং একজন জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তার টেলিফোনের কারণে পূর্ব শিরোনাম পরিবর্তন করার সুযোগ লাভ করি। ভদ্রলোক বেশ কয়েকটি জেলায় জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে প্রেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থায় উঁচু পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এবং তার স্ত্রী নিয়মিত আমার লেখা পড়েন এবং ফোন করে মাঝে মধ্যে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আজো তিনি ফোন করেছিলেন গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত ‘সুন্দরী সুজানা, দুই বৃদ্ধ এবং এক উকিল’ শিরোনামে লিখিত নিবন্ধটির ব্যাপারে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করার জন্য।

জেলা জজ সাহেবের ফোন পেয়ে আমি নিবন্ধটি সম্পর্কে তার মতামত জিজ্ঞেস করি এবং জানতে চাই, নিবন্ধের কোন অংশটি আইনজীবীদের আঘাত করতে পারে এবং কোন অংশের কারণে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হতে পারে। তিনি তখনো মামলার বিষয়টি জানতেন না। আমি তাকে বিস্তারিত জানালে তিনি উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন এবং বলতে থাকেন- কিছু মানুষ নিজেদের অজ্ঞতা প্রকাশের জন্য নিদারুণ ব্যাকুলতা নিয়ে ঘোরাঘুরি শুরু করে। সে যখন নিশ্চিত হয়, তার তামাম অজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার সম্পর্কে লোকজন জেনে গেছে তখন সে নিশ্চিন্ত মনে ঘোরাফেরা বন্ধ করে এবং পরম তৃপ্তি ও আহ্লাদ নিয়ে ঘরে ফিরে আসে। ভদ্রলোকের কথা শুনে আমি আর পাল্টা প্রশ্ন করলাম না।

আলোচনার একপর্যায়ে আমি ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম- আচ্ছা, বলুন তো, নিবন্ধটির কোন কোন বিষয়ে আমার পক্ষে যুক্তি হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। তিনি বেশ দৃঢ়তার সাথে জানালেন, পুরো নিবন্ধটির মূল ভাবধারা আপনার পক্ষে যাবে। কারণ, আপনি আইন পেশাটিকে মহৎ, গ্রহণযোগ্য ও কল্যাণকর পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। নিবন্ধের শুরুতে পবিত্র বাইবেলে বর্ণিত সুজানার কাহিনী এবং শেষাংশে মার্কিন মুলুকের একটি জনপ্রিয় কৌতুক বলে আপনি নিবন্ধটি সুখপাঠ্য এবং বিষয়বস্তুকে উপাদেয় করার চেষ্টা করেছেন। কেউ যদি পুরো বিষয় বাদ দিয়ে কেবল কৌতুকটিকে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চায় তাহলেও তারা সফল তো হবেই না- বরং সচেতন মহলের হাসির পাত্রে পরিণত হবে।

ভদ্রলোকের কথাবার্তা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছিল। আমি বেশ আগ্রহভরে জানতে চাইলাম, কৌতুকটিকে কেন আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না। তিনি জবাবে জানালেন, কোনো প্রচলিত কৌতুক, উপকথা ও প্রবাদ যদি কেউ ব্যবহার করে, তবে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে মানহানির মামলায় ব্যবহৃত হয় না। দ্বিতীয়ত, কৌতুকটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, বাংলাদেশের নয়। বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি অন্য রাষ্ট্রের একটি কৌতুক দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার নজির এ দেশে নেই। তৃতীয়ত, কৌতুকে আপনি উকিল শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বা আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিশ্চয়ই নিজেকে উকিল হিসেবে প্রমাণ করতে চেষ্টা করবেন, কিন্তু তিনি বা তারা সেটা পারবেন না।

আমি ভদ্রলোকের যুক্তি শুনে ভীষণ আশ্চর্য হয়ে জানতে চাইলাম, উকিলেরা কেন নিজেদের উকিল হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন না? তিনি অনেকক্ষণ হাসলেন- তারপর পুনরায় আজকের শিরোনাম অর্থাৎ ‘অজ্ঞতা প্রকাশের নিদারুণ ব্যাকুলতা’ শব্দমালা উচ্চারণ করলেন এবং বললেন, উকিল শব্দটি ফারসি ওয়াকিল শব্দের অপভ্রংশ। সুলতানি আমল, মোগল জমানা এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম দিকের শাসনামলে যখন কোর্ট-কাচারিতে ফারসি ভাষা ব্যবহৃত হতো, তখন সরকারিভাবে উকিল-মোক্তার শব্দগুলো স্বীকৃত ছিল। বর্তমান জমানায় বাংলাদেশের বিধিবদ্ধ আইনে উকিল শব্দটি নেই।

You Might Also Like