রাঙামাটিতে ভবন হেলে হ্রদে, নিহত বেড়ে ৫

রাঙামাটি শহরে হ্রদে হেলে পড়া ভবন থেকে সাজিদুল নামে আরো এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উদ্ধার অভিযানে নেমে ওই লাশ উদ্ধার করে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫-এ।

এর আগে হেলে পড়া ভবন থেকে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত চারজনকে মৃত ও পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ভবনে আটকে পড়া একটি রুম থেকে ট্রাকচালক জাহিদুল ও তার এক সন্তান সামিদুলকে মৃত উদ্ধার করা হলেও আরেক শিশুপুত্র সাজিদুলকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন ওই ভবনের বাসিন্দা ট্রাকচালক জাহিদুল ইসলাম (৪০), তার ছেলে সাজিদুল (১০) ও সামিদুল (৭), গৃহশিক্ষক রাঙামাটি সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্রী উম্মে হাবিবা রুনা (২২) এবং ভবনের আরেক বাসিন্দা রফিকের মেয়ে পিংকি (১৩)।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৫টায় রাঙামাটি সদরে মহিলা কলেজ সড়কের হ্রদের পাড়ে অবস্থিত নইমউদ্দিন টিটু ঠিকাদারের মালিকানাধীন দ্বিতল ভবনটি হেলে পড়তে শুরু করে। মাত্র ১০ মিনিট সময়ের মধ্যে ভবনটির নিচতলা পুরোটাই হ্রদের পানির নিচে চলে যায়।

এ সময় ভবনের দুটি ফ্লোরে অন্তত চারটি পরিবার আটকা পড়ে। তবে পাশের একটি নারিকেল গাছের কারণে পুরো ভবন তলিয়ে যেতে পারেনি। তখন ভবনের কয়েকজন বাসিন্দা বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।

রুবি আক্তার নামে এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বিকেল থেকেই ভবনটির সড়কের পাশের মাটি সরছিল এবং ভবনটি ধীরে ধীরে হেলে পড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে বিকট শব্দে ভবনটি হেলে পড়ে এবং হ্রদের পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে।

কাপ্তাই থেকে নৌবাহিনীর একটি দল রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। এর আগে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা চালায়।

এদিকে ঘটনার পর ভবনের মালিক নঈমউদ্দিন টিটু পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রশীদ।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া নৌবাহিনীর কমান্ডার রায়হান জানান, আর কেউ ভবনে আটকে না থাকায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

You Might Also Like