সিলেট মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপবি) ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস সিলেট শাহপরান থানায় মঙ্গলবার দুপুরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বদরুলকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার বিচার চেয়ে আজ সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন খাদিজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন এবং আগামীকাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

খাদিজার ওপর নৃশংস এ হামলার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়েছে এমসি কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও । আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় শিক্ষার্থীরা এমসি কলেজে বিক্ষোভ মিছিল ও কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় এমসি কলেজ সংলগ্ন টিলাগড়ে সিলেট-তামাবিল সড়কে দু’টি প্রাইভেটকারসহ ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

সোমবার বিকেলে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বদরুল আলম । এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

সহপাঠীরা জানিয়েছে, বদরুল নার্গিসের বাড়িতে লজিং থাকত । সে নার্গিসের কাছে প্রেম নিবেদন করে । নার্গিস তা বারবার প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে বদরুল এ হামলা চালায়।

ঘটনার পরপরই আশঙ্কাজনক অবস্থায় খাদিজা আক্তার নার্গিসকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একাধিক অস্ত্রোপচার শেষেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাতেই ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

হাসপাতালের একজন চিকিৎসক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খাদিজার মাথায় একের পর এক আঘাতের কারণে তার বেঁচে উঠার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন তারা। তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কর্মসূচী সম্পর্কে রেডিও তেহরানকে জানিয়েছেন সিলেটের স্থানীয় সাংবাদিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় জনগণও এ ব্যাপারে দারুণ ক্ষুব্ধ। সিলেটের সচেতন নাগরিক ও প্রশাসনও মনে করছে এ ক্ষেত্রে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতে হবে।

এ প্রসংগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, এরকম নিন্দনীয় ঘটনা যেই ঘটাক না কেন তাকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে বৈঠকে এই মর্মে নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, সিলেট মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগমকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা পার পাবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা বলে কথা না, যে বা যারাই অপরাধ করুক না কেন কেউ পার পাবে না। এর আগেও আমরা কাউকে ছাড় দেইনি। এখনও ছাড় দেবো না। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ ধরনের বিষয়ে খুবই সোচ্চার আর আমরাও এটা পছন্দ করছি না।’#

পার্সটুডে

You Might Also Like