পশ্চিম তীরে নির্বাচন স্থগিত করল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ; মানবে না হামাস

চলতি মাসে গাজা উপত্যকা ছাড়া ইহুদিবাদী ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তা স্থগিত করেছে। আজ (মঙ্গলবার) পশ্চিম তীরের আল-খলিল শহরে এক সাপ্তাহিক বৈঠকের সময় রামাল্লাহভিত্তিক ফিলিস্তিনি সরকার ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। নির্বাচনের নতুন তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

তবে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তটি ফাতাহ আন্দোলনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ তুলে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এ আদেশ নাকচ করেছে।

আজ এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ছয় মাস নির্বাচন স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি জনগণের ইচ্ছার বিপক্ষে গিয়েছে এবং ফিলিস্তিন অঞ্চলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা হামাস মেনে নেবে না।

এর আগে ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ আদালত কেবল পশ্চিম তীরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে বলে আদেশ দেয়। আদালত দাবি করে, গাজা উপত্যকায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিচারকদের প্রয়োজনীয় ‘নিশ্চয়তা’ ছিল না। আদালতের আদেশের পরদিনই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।

হামাসসহ ফিলিস্তিনের বিরোধীদল আদালতের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বিষয়টি ‘রাজনীতিকীকরণ’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। বিরোধীরা বলছে, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পেছনে প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহ আন্দোলনের যোগসাজশ রয়েছে।

হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়, “গাজায় নির্বাচন না করে কেবল পশ্চিম তীরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আদেশের পেছনে গভীর রাজনীতি রয়েছে এবং এই আদেশ ফাতাহ’র ইচ্ছায় হয়েছে।”হামাস আরো জানায়, এই পদক্ষেপ ছিল ফাতাহ’র নির্বাচন এড়ানোর প্রচেষ্টা কারণ উপযুক্ত প্রার্থীর তালিকা দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

ফাতাহ’র পক্ষে প্রচণ্ডভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার জন্য এবং ফাতাহকে ফিলিস্তিনি জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে দেখার জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকেও অভিযুক্ত করেছে হামাস।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর উপপ্রধান মুসা আবু মারজুক তার টুইটার বার্তায় আদালতের সিদ্ধান্তটি ‘রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে’ বলে অভিহিত করেন এবং বিষয়টি ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন আরো গভীর করেছে বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে, আলাদা এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক দল প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ বা পিএনআই জানিয়েছে, আদালতের এই আদেশ “ফিলিস্তিনি জনগণের জাতীয় ও গণতান্ত্রিক স্বার্থের বিরোধী এবং ২০০৬ সালের পর পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার মধ্যে প্রথম সমন্বিত নির্বাচনের পথে বাধা হিসেবে দাঁড়াল, যে নির্বাচন আইনপ্রণেতা, প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পরিষদ নির্বাচিত করার দরজা খুলে দিতে পারত।”

বিবৃতিতে পিএনআই আরো বলেছে, “আমরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সাধারণ অধিকার থেকে গাজায় আমাদের ছেলে-মেয়েদের বঞ্চিত করতে পারি না।”#

পার্সটুডে

You Might Also Like