কক্সবাজার সৈকতে নিখোঁজ রিফাতের মৃতদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারে সাগরে গোসলে নেমে নিখোঁজ ঢাকার বস্ত্র প্রকৌশলের শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোবাবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁকখালী নদীর বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন কক্সবাজার সদরের খুরুশকূল ইউনিয়নের উত্তর রাস্তার পাড়ার বেড়িবাঁধের পাশে ভাসমান অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান কক্সবাজার সদর থানার এসআই মানস বড়ুয়া।

নিহত মো. রিফাত হাসান (২৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফেব্রিক্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার ফতেপুর এলাকার হায়দার আলীর ছেলে।

রিফাতের সহপাঠীরা কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে তার মৃতদেহটি শনাক্ত করেন বলে জানান এসআই মানস।

গত শনিবার সহপাঠীদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট সংলগ্ন সাগরে গোসলে নেমে রিফাত হাসান নিখোঁজ হন।

সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া নিহতের সহপাঠী এনামুল হক শাহীন বলেন, জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ৪৩ জন শিক্ষার্থীর একটি দল শনিবার সকালে কক্সবাজার বেড়াতে যান। শহরের হোটেল-মোটেল জোন এলাকার আবাসিক একটি হোটেলে ওঠার পর ব্যাগ ও জিনিসপত্র রেখে তাদের মধ্যে ৪০ জন সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট সংলগ্ন সাগরে গোসলে নামেন।

শাহীন বলেন, গোসল সেরে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে সবাই হোটেলে ফিরে যান। কিন্তু হোটেলে রিফাত হাসানকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সহপাঠীরা সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন এলাকায় তার খোঁজ নিয়েও সন্ধান পাননি। তখন তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয় টুরিস্ট পুলিশকে অবহিত করা হয়।

এসআই মানস বলেন, কক্সবাজার সদরের খুরুশকূল উত্তর রাস্তার পাড়ার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি মৃতদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, মৃতদেহটির গায়ে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে দেহের বিভিন্ন অংশে বেশ কয়েকটি ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে। হয়তো সাগরে মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর আঘাতে এই ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বিজিবির ইউনিফর্মের মতো থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ও গায়ে কালো টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন।

খুরুশকূল ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন নদীতে একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখে আমাকে জানায়। পরে আমি খবর দিলে পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে।’

এসআই মানস জানান, নিহতের মৃতদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সম্মতির ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে মৃতহদেহটি হস্তান্তর করা হবে। বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

You Might Also Like