আফগানদের ২৮০ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

শততম জয় ও সিরিজ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। উৎসবের মঞ্চ প্রস্তুত টাইগারদের জন্য। আগের ম্যাচেও প্রস্তুত ছিল মঞ্চটি। কিন্তু আফগান দাপটে অপেক্ষা বাড়ে মাশরাফির দলের। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। একটি জয় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনবে চালকের আসনে।

সেই লড়াইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে মিরপুর শের-ই-বাংলায় টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭৯ রান করে বাংলাদেশ। ২৮০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছে আফগানিস্তান।

ব্যাটিংয়ে নেমে মিরওয়েজ আশরাফের বলে মোহাম্মদ শাহজাদের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার ওপেনার সৌম্য সরকার। এরপর তামিমের সংঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় দলকে নির্ভরযোগ্য একটি অবস্থানে নিয়ে যান সাব্বির রহমান। ব্যক্তিগত ৬৫ রান করে রহমত শাহের বলে নওরোজ মঙ্গলের হাতে ধরা পড়েন হার্ডহিটার এ ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে ৭৯ বল মোকাবেলায় ৬ চার ও ৩ ছক্কায় এ ইনিংসটি সাজান সাব্বির।
প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও হতাশ হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। সেই সঙ্গে ভক্তদেরও হতাশায় ডুবিয়েছেন তিনি। তবে আফগানদের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টাইগার সমর্থকদের আর নিরাশ করেননি দেশসেরা এ ওপেনার । দারুণ নৈপুণ্যে নিজের সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তামিম। ১১০ বল মোকাবেলায় ১০ চারের সাহায্যে শতক পূরণ করেন তিনি।

সেঞ্চুরির পূরণের পর অনেকটাই মারমুখী হয়ে উঠেন তামিম। তবে ক্রিজে আরও বেশি আক্রমনাত্মক হয়ে উঠার আগে তাকে ফেরান আফগান বোলার মোহাম্মদ নবী। নাভিন-উল-হকের হাতে তালুবন্দি হওয়ার আগে ১১৮ রান করেন তিনি। সমান সংখ্যা বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় এ ইনিংস সাজান তিনি তামিম।
এরপর ক্রিজে এসে ততোটা সুবিধা করতে পারেননি দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান করার চেয়ে বেশি বল খরচ করেছেন তিনি। ৩৫ বল মোকাবেলা করে ১৭ রান করে আউট হন সাকিব। এরপর ১২ রান করে এলবিডব্লির ফাঁদে পড়েন মুশফিক।

তামিমের আউটের পর উইকেট পতন সামাল দিতে পারেননি বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। এসময় পতনের মিছিলে যোগ দেন গত ম্যাচে অভিষেক হওয়া মোসাদ্দেক হোসনে সৈকতও। ৪ রান করে স্টাম্পিং হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। এরপর মোশাররফ হোসেন রুবেল ৪ ও মাশরাফি বিন মুর্তজা ২ রান করে আউট হন। তবে শেষদিকে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

বল হাতে আফগানিস্তনে হয়ে মোহাম্মদ নবী, মিরওয়েজ আশরাফ ও রশিদ খান ২টি করে উইকেট নেন। আর একটি করে উইকেট পান দৌলত জাদরান ও রহমত শাহ।

৪ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় ৯৯টি। টেস্ট খেলুড়ে সবগুলো দেশই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির কোটা পূরণ করেছে। আজ জিতলেই বাংলাদেশ এলিট ক্লাবে প্রবেশ করবে। এছাড়া ঘরের মাঠে টানা ষষ্ঠ সিরিজ জয়ের স্বাদও পাবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

অন্যদিকে দাপটের সঙ্গে পারফর্ম করা আফগানিস্তান নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে এখনও ওয়ানডে সিরিজ জেতেনি আফগানিস্তান। বাংলাদেশকে হারালে নিশ্চিতভাবেই ইতিহাসের পাতায় বন্দী থাকবে আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা।

বাংলাদেশ দলে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। পেসার রুবেল হোসেনের বদলে খেলছেন শফিউল ইসলাম। মোশাররফ হোসেন রুবেল খেলছেন তাইজুল ইসলামের পরিবর্তে।

বাংলাদেশ স্কোয়াড: মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোশাররফ হোসেন রুবেল, তাসকিন আহমেদ ও শফিউল ইসলাম।

৮ বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন মোশাররফ হোসেন রুবেল। ২০০৮ সালে জাতীয় দলের জার্সি সর্বশেষ পড়েছিলেন বাঁহাতি এ স্পিন অলরাউন্ডার। মিরপুরেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন সর্বশেষ ওয়ানডে।

আফগানিস্তান দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। নাভিন-উল-হকের পরিবর্তে দলে এসেছেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি।

আফগানিস্তান দল: মোহাম্মদ শাহজাদ, নওরোজ মঙ্গল, রহমত শাহ, হাসমতউল্লাহ শাহিদী, আসগর স্টানিকজাই, মোহাম্মদ নবী, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, নাজিবুল্লাহ জাদরান, রশীদ খান, মিরওয়াইজ আশরাফ ও দওলাত জারদান।

You Might Also Like