অবশেষে হিযবুত তাহ্‌রীরের প্রধান সমন্বয়কসহ ছয়জনের বিচার শুরু

প্রায় দুই বছর ধরে ঝুলে থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদসহ ছয়জনের বিচার শুরু হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা ওই ছয় আসামির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আগামী ২৪ অক্টোবর এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য করেছে আদালত।

অভিযোগ গঠনের সময় মামলার প্রধান আসামি অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহমেদসহ পাঁচজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। বিচারক তা নাকচ করে অভিযোগ গঠন করেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সাইদুর রহমান ওরফে রাজীব, কাজী মোরশেদুল হক ওরফে প্লাবন, এম এ ইউসুফ, তানভীর আহমেদ ও তৌহিদুল আলম চঞ্চল। তৌহিদুল আলম এ মামলায় পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকিরা জামিনে থেকে আদালতে হাজির হন।

হিযবুত তাহ্‌রীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে উত্তরা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২০১০ সালে মামলা করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশ মহিউদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলাটি বিচারের জন্য ওই বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। তখনই আদালত থেকে মামলার অনুমোদনের প্রথম দফা চিঠি পাঠানো হলেও অনুমোদনের কোনো কাগজপত্র আদালতে আসেনি। সর্বশেষ ২৮ মার্চ তৃতীয় দফায় চিঠি পাঠানো হয়।

মহিউদ্দিন ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল গ্রেফতার হন। হাইকোর্ট থেকে ২০১১ সালের ৩ মে জামিন পান। পরের বছর কারাগার থেকে মুক্ত হন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। হিযবুত তাহ্‌রীরের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের কোনোরূপ সম্পৃক্ততা নেই। আমি উক্ত সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী বা মুখপাত্র কোনো কিছুই নই। আমি সংগঠনটির এমনকি সাধারণ সদস্যও নই। সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই বিষয়টি অবগত আছেন।”

মহিউদ্দিন আহমেদের এ বিবৃতি প্রকাশের পর গত জুলাই মাসে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তিন শীর্ষ জঙ্গিনেতার বিচার অনুমতির অভাবে আটকে আছে।’

সেখানে বলা হয়, ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রাহমানী, জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) প্রধান মাওলানা সাইদুর রহমান ও হিযবুত তাহ্‌রীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদের বিচার প্রায় দুই বছর ধরে ঝুলে আছে সরকারের অনুমোদন না পাওয়ার কারণে।’

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১৭ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক যে, প্রায় ২১ জন জেএমবি জঙ্গি, যারা ফাঁসির আসামি, তাদের মামলা হাই কোর্টে ঝুলে আছে। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এটার কোনো সুরাহা হচ্ছে না। অথচ এ বিচারগুলি হয়ে গেলে হয়ত বাংলাদেশ আরও মুক্ত হতো।”

প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রায় আড়াই মাস পর হিযবুত তাহ্‌রীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদসহ ছয়জনের বিচার শুরু হলো।#

পার্সটুডে

You Might Also Like