মানুষ-পেঙ্গুইনের বিরল বন্ধুত্ব !

বন্ধুত্বের অনেক নিদর্শন সম্পর্কে আমরা অতীতেও জেনেছি- কিন্তু মানুষ ও পেঙ্গুইনের মধ্যে বন্ধুত্বের কথা আগে কখনো শোনা গেছে কি না, জানা নেই। এমনই এক অভূতপূর্ব বন্ধুত্বের ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলে।

২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের কথা। ব্রাজিলের ইলহা গ্রান্ড দ্বীপের প্রোভেটা দ্বীপে ভেসে আসে পেঙ্গুইনটি। আধমরা অবস্থায় এটিকে দেখতে পান সেখানকার এক মৎস্যজীবী জায়োও প্রেইরা ডি সৌজা। পাথরের ওপর মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিল। সারা দেহে তেল ও কাদামাটি লেগে চলার ক্ষমতা হারিয়েছিল দিনদিম নামে পেঙ্গুইনটি।

ডি সৌজা দিনদিমকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে যান। সযত্নে গায়ের ময়লা পরিষ্কার করে দেন। এ জন্য প্রায় এক সপ্তাহ লেগেছি তার। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে দিনদিম।

ডি সৌজা সাগরে ছেড়ে দেন দিনদিমকে। আর কখনো এটির দেখা পাবেন বলে আশা করেননি তিনি। কিন্তু জীবন রক্ষাকারী বন্ধু ডি সৌজাকে দিনদিম ভুলে যায়নি। কয়েক মাস পর সেই দ্বীপে আসে হাজির।

ডি সৌজা হতবাক হয়ে যান- এ কি দেখছেন তিনি! এ যে সেই দিনদিম, যাকে কয়েক মাস আগে সাগরে ছেড়ে দিয়েছিলেন। দিনদিম শুধু দ্বীপেই আসেনি, বন্ধুর বাড়ি পর্যন্ত চলে গেছে।

না, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ২০১১ সালের পর প্রতিবছর দিনদিম তার মানুষ-বন্ধু ডি সৌজার সঙ্গে দেখা করতে আসে। এ জন্য তাকে পাড়ি দিতে হয় ৮ হাজার ৪৬ কিলোটিার। তবু দিনদিম আসে। বছরের প্রায় ৮ মাস ডি সৌজার সঙ্গে কাটায়। বাকি সময়ে প্রজননের জন্য আর্জেন্টিনা ও চিলির উপকূলে থাকে। এ সময় ডি সৌজার বাড়ি থেকে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকতে হয় তাকে।

সাগরে থাকলেও পেঙ্গুইন উড়তে পারে না। গ্লোব টিভিকে ডি সৌজা বলেছেন, ‘আমার কাছে ফিরে আসতে দিনদিমকে দীর্ঘ পথ সাঁতরে আসতে হয়। সন্তানের মতো আমি দিনদিমকে ভালোবাসি। আমি বিশ্বাস করি, পেঙ্গুইনটিও আমাকে ভালোবাসে।

ডি সৌজা আরো জানান, শুধু তিনি ছাড়া আর কেউ তাকে ধরতে গেলে ছুটে পালায়। তার কাছেই এটি খায়, ঘুমায় এবং বিশ্রাম নেয়।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল অনলাইন।

You Might Also Like