ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

নতুন অর্থবছরের বাজেটের প্রস্তাবে ঘাটতি মেটাতে এবারো ব্যাংক থেকে সরকার ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য প্রস্তাব ঠিক করা হয়েছে।

বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২৬ হাজার টাকা ঠিক করা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা ৩০ হাজার কোটি টাকার কাছে গিয়ে ঠেকেছিল।

সরকারের ব্যাংকঋণ নিয়ে বেসরকারি শিল্পোদ্যোক্তাদের অসন্তোষের মধ্যেই বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদে যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তাতে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাজেটের আকারের ২ শতাংশ ৩ শতাংশ দেখা যায়।

২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। এত ঘাটতি থাকছে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ।

এই ঘাটতি মেটাতে সরকার দেশীয় উৎস থেকে ৪৩ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে অঙ্ক জিডিপির ৩ দশমিক ২ শতাংশ। আর বিদেশি উৎস থেকে ২৪ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করা হয়েছে।

এবারের ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় ৫ হাজার ২২৮ কোটি এবং সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এক হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বেশি।

দেশীয় উৎস থেকে নেয়া ৪৩ হাজার ২৭৭ কোটি টাকার মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়া হবে ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। বাকি ১২ হাজার ৫৬ কোটি টাকার সংস্থান হবে জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্পসহ অন্যান্য খাত থেকে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৩৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা করা হয়।

এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৯ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য খাত থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

সরকারের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণের সমালোচনা করে শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, এতে বেসরকারি খাতে ঋণ পাওয়া দুস্কর হয়ে পরে, বেড়ে যায় সুদের হারও।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়লে এই অর্থ তিন মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করেন ব্যাংকাররা।

You Might Also Like