কাশ্মিরে বনধের সময়সীমা ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি, প্রতিদিন গ্রেফতার ৫০

কাশ্মিরে আন্দোলনকারী নেতারা চলমান বনধের মেয়াদ ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন। রাজ্যের বিভিন্নস্থান থেকে কারফিউ প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পেট্রল পাম্প, স্কুল-কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে রয়েছে। সরকারি যানবাহনও চলাচল করছে না।

মঙ্গলবার উরি এবং নওগাম সেক্টরে বন্দুক যুদ্ধে এক ভারতীয় সেনা জওয়ান এবং ১০ অনুপ্রবেশকারী নিহত হয়। অন্যদিকে, উরি সেক্টরেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তানি সেনারা ভারতীয় সেনা চৌকি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ভারতীয় সেনারাও পাল্টা গুলি চালিয়ে এর জবাব দেয়।

আজ (বুধবার) সকাল থেকে পুনরায় উরি এবং নওগাম সেক্টরে অনুপ্রবেশকারীদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, উরি এবং নওগাম সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অভিযান চলছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং কাশ্মির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এক সপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই কাশ্মির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ছাড় দেয়া হয়েছে। সে সময় বলা হয়েছিল, উপত্যাকায় এই সময়ের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলাসহ ব্যবসায়িক কাজকর্মও স্বাভাবিক হবে। যদিও আজ পর্যন্ত তা স্বাভাবিক হয়নি।

গোলযোগপূর্ণ ওই রাজ্যটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তুলতে সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, গতকাল মঙ্গলবার ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যদিও এতেও সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না। নিরাপত্তা বাহিনী রাতের বেলায় বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার অভিযান চালালেও পরদিন সকালে মানুষজন রাস্তায় নেমে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। অন্যদিকে, চলমান সহিংসতায় উসকানি দেয়ার অভিযোগে সেখানে ১৬২ জন সরকারি কর্মীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ডিসিদের এদের ওপর সতর্ক নজর রাখার জন্য বলা হয়েছে। কয়েকটি জেলায় এ ধরণের কর্মীদের বিরুদ্ধে নোটিশও দেয়া হয়েছে।#

পার্সটুডে

You Might Also Like