জঙ্গিদের লেলিয়ে দেওয়া গণতান্ত্রিক নয় : আশরাফ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কৌশল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অংশ নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া যে রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছেন তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অংশ নয়। ষড়যন্ত্র করা, কূটচাল করা, জঙ্গিদের লেলিয়ে দেওয়া এটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অংশ নয়।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভা শেষে তিনি কথা বলেন।
বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আশা করি তারা আবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যুক্ত হবেন এবং গণতন্ত্রকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
জঙ্গি নির্মূলের নামে সরকারবিরোধীদের ওপর দমন-পিড়ন চালানো হচ্ছে বিএনপির এমন অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আশরাফ বলেন, যাদের হয়রানি করা হচ্ছে তারা হচ্ছেন জঙ্গি। এখন যদি দুই চারজন জঙ্গি বিএনপিতে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই পারে।
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জঙ্গি দমন করা সবার দায়িত্ব। শুধু আওয়ামী লীগের নয়, সমগ্র জাতির দায়িত্ব। বাংলাদেশ যদি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হয়ে যায় তবে কেউই রেহাই পাবে না। আওয়ামী লীগও পাবে না বিএনপিও পাবে না। সুতরাং সবাইকে জঙ্গি দমনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবির বিষয়ে আশরাফুল বলেন, এগুলো সংবিধানের অংশ। পার্লামেন্টরি ডেমোক্রেসিতে প্রাইম-মিনিস্টার যেকোনো সময় পার্লামেন্ট ডিসলভড করার অধিকার রাখেন। এতে রাষ্ট্রপতিরও অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই। আদালতেরও সমস্যা নেই। প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে কবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে।
শক্তিশালী বিরোধীদল না থাকায় আওয়ামী লীগ শুন্যতা অনুভব করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক বলেন, আসেন তাদের বলেন নির্বাচনে অংশ নিক। সেখানেই প্রমাণ হবে কার জনপ্রিয়তা আছে কি নেই। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।
কানাডায় থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে নূর চৌধুরীকে নিয়ে কথা হয়েছে। কীভাবে তাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া যায় সেটির উপায় বের করতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে কাজ করবেন। এটি একটা অগ্রগতির অংশ।
এদিকে জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরলে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধণা দেওয়া হবে।
সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, আইন বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, দফতর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কার্যনির্বাহী সদস্য এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

You Might Also Like