তিন জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মধুপুর, সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লায় এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে আটজন।

মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পৃথক এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
মৃতরা হলেন- টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বাবা নিখিল হাজং (৪৫) ও তার দুই ছেলে জর্জ সিমসাং (১০) ও লোটন সিমসাং (৮)। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের কনাই মিয়ার ছেলে শামীম, আব্দুল হাসিমের ছেলে তফুর মিয়া ও টুক দিরাই গ্রামের শামরান হোসেন। শাল্লা উপজেলার সিহাইল গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে হৃদয় মিয়া, আক্কাস আলীর ছেলে ইমন মিয়া ও হায়দার আলীর ছেলে শাইনাল মিয়া। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পূর্বচর করনশী গ্রামের মারুফ মিয়ার স্ত্রী ললিতা বেগম (৪৩) ও তার ছেলে রিমন মিয়া (১৪)।
টাঙ্গাইল: মধুপুর বনাঞ্চলে বজ্রপাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বাবা ও দুই শিশু ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন মা। মঙ্গলবার ভোর রাতে মধুপুর বনের মাগন্তিনগর পচারচনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মি. ইউজিন নকরেক জানান, ভোর রাতে বৃষ্টির সময় গারো পরিবারের নিখিল হাজংয়ের শোবার ঘরের উপর বজ্রপাত হয়। এতে ঘুমিয়ে থাকা নিখিল হাজংসহ তার দুই শিশু সন্তান জর্জ সিমসাং ও লোটন সিমসাং মারা যায়। এসময় ওই দুই শিশুর মা জনতা সিমসাংয়ের শরীর ঝলসে যায়। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন ছয়জন।
দিরাই থানার ওসি আব্দুল জলিল জানান, সকাল সকাল ৯টার দিকে নৌকা নিয়ে মাটিয়াপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী চাপতির হাওরে মাছ ধরতে যান শামীম, তফুর মিয়াসহ ৭-৮ জন। মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে দুইজন মারা যান। এ সময় আহত হন পাঁচজন। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদিকে, বজ্রপাতে একই সময় উপজেলার টুক দিরাই গ্রামে শামরান হোসেন নামে একজন মারা যান বলে জানান ওসি।
শাল্লা থানার ওসি বজলার রহমান জানান, শাল্লা উপজেলার সিহাইল গ্রামের পাশে পাটামারা হাওরে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে তিনজন মারা যায়। এ সময় মিয়া নামে অপর এক ব্যক্তিকে আশংকাজনক অবস্থায় আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ: করিমগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আহত হয়েছেন মেয়ে রিমা আক্তার (১৭) তাকে আশংকাজনক অবস্হায় পার্শ্ববর্তী তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের পূর্বচর করনশ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির রাব্বানী জানান, সকালে ঝড়ো হাওয়ার সময় ললিতা বেগম নিজ কাঁচাঘরে ছেলে মেয়েকে নিয়ে অবস্হান করছিলেন। এসময় বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়।

You Might Also Like