সরকার প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল এবং উৎসাহিত করছে: বিএনপি

দলমত নির্বিশেষে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করার বদলে সরকার কেবলমাত্র দলীয় নেতা-কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রশাসনিক কমিটি গঠন করেছে বলে অভিযোগ করেছে করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

আজ (সোমবার) নয়াপল্টন কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশব্যাপী প্রকৃত উগ্রবাদী-সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের পরিবর্তে বিএনপি নেতা কর্মীদের তালিকা করে গ্রেফতার ও হয়রানির মাধ্যমে ভোটারবিহীন নির্বাচনের গঠিত বর্তমান জনপ্রতিনিধিত্বহীন সরকার প্রকারান্তরে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল এবং উৎসাহিত করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কেবলমাত্র প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মিথ্যা, কাল্পনিক অভিযোগে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার অপ-উদ্দেশ্যে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জড়িত করে হয়রানি করছে।

নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে যাওয়া বিএনপি‘র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্যদেরকেও ফেনীতে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অনান্য নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও নানা মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে।

উগ্রবাদ বিস্তারের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই বিএনপির কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গডফাদারসহ অন্যান্যদের সফলভাবে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। অন্যান্য সময়ও বিএনপির সরকার সচেষ্ট ছিল উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস দমনে। কারণ বিএনপি আদর্শিকভাবেও উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী।

বিএনপি’র এ নেতা বলেন, “শুধু আমরাই নয়, দেশবাসীও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, জঙ্গি নির্মূলে সরকার আন্তরিক নয়, যদি থাকত তবে জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত না করে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার ব্যবস্থা নিত।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, দেশে সাম্প্রতিক উগ্রবাদী হামলার পরপরই বিএনপি এর বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যের আহবান জানিয়েছে। আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে সাংবাদিক সম্মেলন করে ওই ঘটনা তীব্র নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিএনপির কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত না করে উল্টো বিএনপিসহ বিরোধীদলকে হীনউদ্দেশ্যে দোষারোপ করে ইচ্ছকৃতভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার সম্ভাবনা নস্যাৎ করেছে।

বিএনপি মনে করে, নির্বাচিত সরকার, জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর সংসদ, গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকারহীন পরিস্থিতিতে এসব উগ্রবাদ,সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি, অবাধ গণতন্ত্র এবং রাজনীতির অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ ও সরকার গঠনের মাধ্যমে উগ্রবাদ সন্ত্রাসীবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। এটা বর্তমান ক্ষমতাসীনরা যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করবেন, দেশ ও জাতির জন্য ততই মঙ্গল হবে।

নজরুল ইমলাম খান অবিলম্বে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন নিপীড়ন বন্ধ করার দাবি জানান এবং মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বিএনপির ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রথ্যাহারের দাবি করেন।

You Might Also Like